প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা চলে যেতেই অন্দরের কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবার প্রকাশ্য রাস্তায়! ১৯ জন সাংসদের বিদ্রোহ এবং দলীয় কোন্দলে জেরবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরীণ ফাটল এবার এক্কেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিল। দলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর হতাশা এবং পারস্পরিক ক্ষোভের জেরেই এখন পিসি-ভাইপোর দলটির এই দশা।

শনিবার দলীয় নেতৃত্বের একাংশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন। (যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা বা ব্যক্তিগত আক্রমণের দায় আমাদের পোর্টাল স্বীকার করে না, তাঁর বক্তব্যটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো)। কুণাল ঘোষ বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে তো বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। বিজেপি marketing-এ তো বিরাট সাকসেস। শুধু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় একটা পরচুলোওয়ালা ওরকম একটা অদ্ভুত টাইপের লোক পাওয়া গেল তা-ই নয়, তারসঙ্গে একটা ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে।” উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে কুণালের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের এই পরিস্থিতির জন্য কুণাল ঘোষ পরোক্ষভাবে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সুবিধাবাদী নেতাদের মাথায় বসিয়ে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। কুণাল দাবি করেন, দল যখন ভালো অবস্থায় থাকে, তখন এরাই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, আর পরিস্থিতি একটু উল্টো হলেই ভোলবদল করে। উত্তর কলকাতার চেয়ারম্যান পদ থেকে শুরু করে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার করার সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে এখন দলের সুপ্রিমোকেই ভেবে দেখতে হবে বলে খোঁচা দেন তিনি। দলের তৎকালীন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কুণাল বাবু মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে তিনি বারবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দলকে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর কথা শোনা তো হয়ইনি, উল্টে তাঁকে অপ্রিয় হতে হয়েছিল এবং দলীয় কোপ ও সাসপেনশনের মুখে পড়তে হয়েছিল। কুণাল ঘোষের দাবি, আজ তাঁর সেই পুরোনো আশঙ্কাই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। এমনকি সক্রিয় নেতা তাপস রায়কে যে সুদীপবাবুর চক্রান্তের কারণেই একদা দল ছাড়তে হয়েছিল, সে কথাও আজ নতুন করে মনে করিয়ে দেন কুণাল ঘোষ।

দলের ভাঙন প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে তৃণমূলের যে ১৯ জন সাংসদ সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি ঝাঁঝালো সুরে বলেন, “বিধায়ক বা সাংসদ, আপনি নির্দল জেতেননি। আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিহ্নে এবং কর্মীদের পরিশ্রমে ভোটে জিতেছেন। আজ অন্য কোথাও যাওয়ার আগে মানুষের ও কর্মীদের মতামত নিন।” রাজ্যসভার জওহর সরকার বা সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো এই বিদ্রোহী সাংসদদেরও অবিলম্বে নিজেদের পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে দাবি তোলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মমতার দলের অন্দরে কোনো শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতার মধু ফুরিয়ে আসতেই যেভাবে শীর্ষ নেতারা একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন, চুল বা বিউটি পার্লার নিয়ে কদর্য আক্রমণ শুরু করেছেন, তা অত্যন্ত নিম্নমানের রাজনীতির পরিচয় দেয়। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য পুরো বিষয়টিকে তৃণমূলের নিজস্ব দেউলিয়াপনা এবং অভ্যন্তরীণ কামড়াকামড়ি হিসেবেই দেখছে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া এই দলটির ভবিষ্যৎ এখন কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকে, সেটাই দেখার।