প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদল হতেই এবার তীব্র ভাঙনের মুখে মালদা জেলা পরিষদ। বর্তমান সভাধিপতি লিপিকা বর্মণ ঘোষের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূলেরই একাংশের সদস্যরা। জেলা পরিষদের মোট ৩৪ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৭ জন সদস্য সভাধিপতির অপসারণ চেয়ে মালদা ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর জেলা স্তরের এই আকস্মিক বিদ্রোহে মালদার গ্রামীণ প্রশাসনিক বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

৪৩ আসন বিশিষ্ট মালদা জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ২২। তৃণমূলের ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জন সদস্য সরাসরি বর্তমান সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থার চিঠি দিয়েছেন। সভাধিপতির বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র ও সাধারণ সদস্যদের এড়িয়ে ৪-৫ জন ঘনিষ্ঠকে নিয়ে জেলা পরিষদ চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। মোট ৪৩ টি আসনের মধ্যে ৩৪ টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল, কংগ্রেস ৫ টি এবং বিজেপি ৪ টি আসনে জয়লাভ করে। এই সমীকরণে বোর্ড গঠন করে সভাধিপতি পদে বসেন লিপিকা বর্মণ ঘোষ। তবে ২০২৬-এর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মালদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন খোদ সভাধিপতি লিপিকা বর্মণ ঘোষ। কিন্তু নির্বাচনে বিজেপির গোপালচন্দ্র সাহার কাছে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই মালদা জেলা পরিষদের ভেতরে এই অসন্তোষের আগুন জ্বলছিল, যা আজ অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে এল।

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদটি বর্তমানে ‘তপশিলি জাতি মহিলা’ (SC Woman) হিসেবে সংরক্ষিত। ফলে বর্তমান সভাধিপতিকে পদ থেকে সরানো হলে সেই সংরক্ষিত আসন বজায় রেখেই নতুন মুখ খোঁজার তৎপরতা শুরু করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা পরিষদের মোট ৪৩ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জন সদস্য অনাস্থা তোলায় বর্তমান বোর্ডের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একদিকে তৃণমূলের অন্দরের এই চরম কোন্দল, অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বিরোধী দলগুলির কৌশল— সব মিলিয়ে মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মালদার রাজনীতিতে। জেলা প্রশাসন এই চিঠির প্রেক্ষিতে কবে ভোটাভুটির দিনক্ষণ ঘোষণা করে, এখন সেটাই দেখার….