প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলে দিয়ে ২০ জন সাংসদের হাত ধরে পথ চলা শুরু করেছে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)। আজই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে NCPI নেতৃত্ব। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মূলত এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। লোকসভার সমীকরণের নিরিখে বিজেপির পরেই এখন এই জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল হতে চলেছে তারা। দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এই জোটের বড়সড় রাজনৈতিক পুরস্কার পেতে পারেন দলত্যাগী সাংসদেরা। রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, বর্ষীয়ান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শর্মিলা সরকারের মতো নামেরা মোদী মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

কিন্তু দিল্লির এই রাজনৈতিক তৎপরতার মাঝে বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি কি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব? আজ তৃণমূল আর বাংলার ক্ষমতায় নেই, তারা পূর্বতন শক্তি মাত্র। কিন্তু যে তৃণমূলের রাজনৈতিক লাইন এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ের বিরুদ্ধে বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে আসল বিজেপি কর্মীরা দিনের পর দিন লড়াই চালিয়েছেন, মার খেয়েছেন, আজ সেই শিবিরেরই একঝাঁক সাংসদকে দিল্লির দরবারে স্বাগত জানানো হচ্ছে। দল ত্যাগ করেই সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের এই জোরালো সম্ভাবনা কিন্তু বাংলার খাঁটি বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা মোটেও সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বলে দলের অন্দরের খবর।

যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা শর্মিলা সরকারদের রাজনৈতিক লাইনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজেপির কর্মীরা বুথ স্তরে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন, আজ হঠাৎ তাঁরাই ক্ষমতার বৃত্তে সামনে চলে আসবেন? এনডিএ জোটের শরিক দল হিসেবে তাঁদের স্বাগত জানানো দিল্লির সমীকরণে এক প্রকার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হতে পারে, কিন্তু তাঁদের সরাসরি মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা কি একটু তাড়াহুড়ো নয়? এই খবর সামনে আসতেই দলের আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের একাংশের মধ্যে এক ধরণের মানসিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের চোরাস্রোত তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন বুথ স্তরের রিপোর্টে উঠে আসছে।

বিজেপি একটি নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে চলা রাজনৈতিক দল। ‘পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স’— এই ভাবমূর্তিই দলের কর্মীদের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু ক্ষমতার অংক মেলাতে গিয়ে যদি বুথ স্তরের আবেগ উপেক্ষিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে? বাংলার মানুষ তৃণমূলের বিকল্প পথ খুঁজছিল। কিন্তু সেই শিবিরের নেতাদেরই যদি আবার দিল্লির মন্ত্রী করা হয়, তবে সাধারণ জনমানসে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, বাংলায় সংগঠন টিকে রয়েছে বুথ স্তরের কর্মীদের নিরলস লড়াইয়ের ওপর ভর করে, কোনো সুযোগসন্ধানী নেতার ক্যারিশমায় নয়। জোটের বাধ্যবাধকতা মেনে চললেও, দলের নিজের কর্মীদের আবেগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। নতুনদের অতি-গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমরা যেন আমাদের আসল সম্পদ— অর্থাৎ সেই লড়াকু বিজেপি কর্মীদের হারিয়ে না ফেলি। সময় এসেছে একটু থেমে আত্মসমালোচনা করার, নইলে বাংলার মাটিতে বিজেপির নিজস্ব জমি শক্ত রাখা কঠিন হতে পারে।