প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গতি এসেছে প্রশাসনিক সংস্কারে। বিগত দিনে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে যে ‘থ্রেট কালচার’ ও রেফারের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছিল, তা চিরতরে বন্ধ করতে এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল স্বাস্থ্য দপ্তর। দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।রাজ্যের গ্রামীণ স্তরের মানুষের জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করতে স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই একটি আধুনিক মহানির্দশিকা বা ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করেছে। এবার সেই মাস্টারপ্ল্যানকে চূড়ান্ত রূপ দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সাথে বিশেষ বৈঠকে বসছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— “আমাদের প্রধান লক্ষ্য গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আমরা এই ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে ঘিরে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। আরজি কর-কাণ্ড থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় রেফার রোগের দাপট— সবকিছু নিয়েই সরব হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পূর্বতন জমানার আমলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ফাঁক-ফোকরগুলি খুঁজে বের করে দ্রুত সংশোধন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা ক্ষেত্রে চলা দীর্ঘদিনের একচেটিয়া দাদাগিরি রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী-শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো অন্ত্যোদয়— অর্থাৎ সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে সুশাসনের সুফল পৌঁছে দেওয়া। স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন ব্লুপ্রিন্টেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জেলা ও ব্লক স্তরের হাসপাতালগুলিতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট, আইসিইউ এবং উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর কলকাতার দিকে ছুটতে না হয়। গ্রামীণ ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ‘রেফার’ করার চেনা প্রবণতা আটকে রোগীদের ভোগান্তি কমানো যায়। যে যুগান্তকারী মোদী-কবচ তথা ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে এতদিন এ রাজ্যে চালু করা যায়নি, সেই বিমা প্রকল্পকে এবার পূর্ণ শক্তিতে বাংলায় রূপায়িত করার আইনি খসড়া তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলির সাথে বৈঠক করে স্বাস্থ্য দপ্তর কড়া বার্তা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে আসা দরিদ্র রোগীদের জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রেও পরিষেবা ও বেড সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কাফ সিরাপের কালোবাজারি এবং বেআইনি মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক অবস্থান নিয়েছে নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

বিধাননগর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজে একজন অত্যন্ত সফল ও অভিজ্ঞ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। রাজনৈতিক স্বার্থ বা তোষণের বদলে একজন উচ্চশিক্ষিত পেশাদার চিকিৎসককে স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এই আসন্ন বৈঠকের পরেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে চলেছে এই ব্লুপ্রিন্টে। আর এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গবাসী অবশেষে পেতে চলেছেন এক স্বচ্ছ এবং ভরসাযোগ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা।

(এই বিষয়ে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।)