প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কথিত সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে বারংবার সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা, ২০২৬-এর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আজ সেখানে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। আজ, ১৮ জুন, রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে মহামান্য রাজ্যপাল আরএন রবি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে কড়া বার্তা দিলেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। তাঁর বক্তব্যের মূল স্লোগান ছিল— ‘ভয় OUT ভরসা IN’।পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দুটি শব্দ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আসলে বিগত জমানার চণ্ডীপাঠ ও দমনমূলক রাজনীতিতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের মনের অবরুদ্ধ আর্তনাদ। রাজ্যপালের এই তীক্ষ্ণ বার্তা বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলায় এবার তোষণের রাজনীতি অতীত, শুরু হচ্ছে প্রকৃত আইনের শাসন।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, তা বিভিন্ন সময়ে আদালতের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে। রাজ্যপালের আজকের বক্তব্যেও পরোক্ষে সেই ক্ষতের কথাই উঠে এসেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যেভাবে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) পর্যন্ত সেই সময় আদালতের কাছে পেশ করা রিপোর্টে বাংলায় আইনের শাসনের চরম অবনতির কথা উল্লেখ করেছিল। সন্দেশখালির মতো ঘটনা, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল এবং মহামান্য আদালতও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছিল, সেই সমস্ত অধ্যায়কে অতীত করে রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ‘ভয়’ দূর করতে বদ্ধপরিকর নতুন প্রশাসন। সন্দেশখালির মা-বোনেদের দীর্ঘদিনের কান্না ও ক্ষোভই ছিল রাজ্যে ভয়ের পরিবেশের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যে কোনো অপরাধমূলক কাজকে বরদাস্ত করবে না।
বাংলায় ‘ভরসা’ ফিরিয়ে আনতে মূলত তিনটি স্তরে কাজ শুরু হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিগত সরকারের দলীয় দাসত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। অপরাধের বিচার হবে আইনের পরিভাষায়, কোনো রাজনৈতিক রঙ দেখে নয়। নারী সুরক্ষায় কঠোরতম অবস্থান গ্রহণ করবে এই সরকার। সন্দেশখালির মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নির্ভয়ে প্রয়োগ করতে পারেন এবং সব দল যাতে কোনো রকম হিংসার শিকার না হয়ে মুক্ত বাতাসে রাজনীতি করতে পারে, তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ আসলে বিগত সরকারের অপশাসনের অবসান এবং বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন ব্যবস্থার এক দৃঢ় অঙ্গীকারপত্র। যে পুলিশ প্রশাসন এতদিন শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে ব্যস্ত থাকত বলে অভিযোগ উঠত, আজ থেকে তাদের মূল কাজ হবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজ্যপালের ‘ভয় OUT ভরসা IN’ স্লোগান আজ শুধু বিধানসভার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা উত্তর থেকে দক্ষিণ— বাংলার প্রতিটি কোণায় কোটি কোটি মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। এবার দেখার, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর বাংলায় শান্তি ও প্রগতির রথ কতটা দ্রুত এগিয়ে চলে।