প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তগুলিকে অপরাধমুক্ত এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। আজ, ১৮ জুন, নতুন বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে মহামান্য রাজ্যপাল আরএন রবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পারের যেকোনো ধরণের পাচার রুখতে সরকার দায়বদ্ধ। বিগত জমানায় সীমান্ত সুরক্ষার ঢিলেঢালা ভাব এবং পাচারকারীদের যে রমরমা অভিযোগ উঠত, তা এবার কঠোর হস্তে দমন করা হবে।রাজ্যপালের এই জাতীয়তাবাদী ও কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার ভৌগোলিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশাসন কোনো রকম আপস করবে না।

ভাষণে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম না নিলেও, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং পাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তার দিকেই ছিল রাজ্যপালের তির্যক ইঙ্গিত। বিগত বছরগুলিতে সীমান্ত গলে যেভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে এবং তার ফলে রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তনের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বারেবারে সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। রাজ্যপাল আজ সাফ জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষার স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। বাংলার নদীগুলি থেকে বেআইনি বালি খনন এবং সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশু পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির রিপোর্টে উঠে এসেছে। রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে জানান, এই সমস্ত মাফিয়া রাজের শিকড় এবার উপড়ে ফেলা হবে।

রাজ্যপাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় পাচারকারীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে মূলত এই তিনটি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। সীমান্ত সুরক্ষাকে ১০০% নিশ্ছিদ্র করতে বিএসএফ (BSF) এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে রাজ্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। বালি ও মানব পাচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারির জন্য রাজ্যে একটি হাইলেভেল ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। সরকারি নীতি অমান্য করে যারা বালি ও খনিজ সম্পদ লুট করছিল, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সমস্ত অব্যবহৃত ও বেআইনি খনি সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ আসলে অনুপ্রবেশ এবং পাচার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক নতুন যুদ্ধ ঘোষণা। এতদিন ধরে যে সীমান্ত এলাকাগুলিকে অপরাধের মুক্তাঞ্চল বলে অভিযোগ করা হতো, সেখানে কেন্দ্রীয় নীতি এবং রাজ্যের নতুন সদিচ্ছার মেলবন্ধনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। বাংলার সীমান্তবাসী মানুষও এই সুরক্ষার বার্তায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।