প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই যেন স্পষ্ট হয়ে গেল ক্ষমতার অলিন্দ থেকে চ্যুত ‘কালীঘাট পন্থী’দের রাজনৈতিক অস্বস্তি। জনগণের রায়ে ক্ষমতা হারানোর পর বিধানসভার অন্দরে এখন নিজেদের পরিষদীয় অস্তিত্ব টেকাতেই রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিনেই সমস্ত রাজনৈতিক দম্ভ পাশে সরিয়ে রেখে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরের দরজায় কড়া নাড়লেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি— পরিষদীয় রাজনীতির গোলকধাঁধায় কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আলাদা বসার ঘর এবং বিধানসভায় মুখ খোলার জন্য আলাদা সময়ের আর্জি জানাতেই এই সাক্ষাৎ! বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, ক্ষমতা হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া এই শিবিরের ভেতরের আদি ও নব্য কোন্দল এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, তাঁরা বিধানসভায় নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর ‘দাক্ষিণ্য’ ও সহানুভূতির ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন এই বিধায়কদল। বৈঠক শেষে বাইরে এসে কুণাল ঘোষ অবশ্য নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে সেই অস্বস্তিকে ঢাকার চেষ্টা করে বলেন, তাঁরা নাকি মাথা উঁচু করেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তাঁদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই রাজনৈতিক বাস্তবতার ছাপ পরিষ্কার। বিধানসভায় টিকে থাকার তাগিদে তাঁরা প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন যে রাজ্যে এখন প্রধান চালিকাশক্তি শুভেন্দু অধিকারীই। মুখ্যমন্ত্রীও অবশ্য ‘রাজধর্ম’ পালন করেছেন এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে এই বিধায়কদের জন্য আলাদা ঘর ও বক্তৃতার সময়ের বন্দোবস্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর কুণাল ঘোষদের মূল নিশানা ছিল তাঁদেরই শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল প্রকাশ্যেই ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে তাঁরা নাকি ‘বালিশ চাটা রাজনীতি’ করেন না এবং ওই পক্ষ থেকে কোনো দয়া চান না।

রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন, ক্ষমতা হারানোর পর যদি নিজেদের ভেতরেই এতো সদ্ভাব, তবে কেন বিধানসভায় বসার জন্য আলাদা ঘর চাইতে হচ্ছে? কেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দরজায় আর্জি জানাতে হচ্ছে? বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, এই অভ্যন্তরীণ লড়াই এবং শুভেন্দুর দুয়ারে এসে আলাদা সুযোগ-সুবিধা আদায় করার চেষ্টা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের কালীঘাট দুর্গ এখন তাসের ঘরের মতো নড়বড়ে। জনতা যাঁদের ক্ষমতা থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত নতুন জমানায় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিজেপির সরকারের দরজায় যাওয়া ছাড়া কুণালদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।