প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম বা গোডাউন ভেঙে পড়ে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুললেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উক্ত গুদামের নকশায় ফিরহাদ হাকিমের সই থাকার প্রমাণ পেশ করার পর, পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে প্রাক্তন মেয়র দাবি করেছেন, গুদামটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই অনুমোদন পেয়েছিল, তবে নির্মাণ ক্ষেত্রে নজরদারির অভাব ছিল।

এদিন এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমি যতদূর জেনেছি, গোডাউনটা বেআইনি নয়। নজরদারির অভাব ছিল। মেয়র বা কমিশনার গিয়ে তো আর নজরদারি করতে পারে না”। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যদ্দুর জেনেছি, এটা অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছিল। যদিও এটা তৈরি করতে কী কী মেটেরিয়াল ব্যবহার হয়েছে, সেটা জানার কথা আমার নয়। বা ওখানে কোথায় হচ্ছে, সেটাও আমি জানতাম না”। প্রাক্তন মেয়রের যুক্তি, কোনো ফাইলের টেকনিক্যাল দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পুরসভার বিল্ডিং দফতরের। সেখান থেকে ফাইল ছাড়পত্র পাওয়ার পরই মেয়রের দপ্তরে তা চূড়ান্ত সইয়ের জন্য আসে।

এর আগে আজ রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারাতলা কাণ্ড নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। সরকারি ফাইল ও নথি উঁচিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই এই ত্রুটিপূর্ণ গুদাম নির্মাণের মূল নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন’ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্পষ্ট সই রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী একে সরাসরি ‘মৃত্যু পরোয়ানায় সই’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে পুরসভার একাধিক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের গাফিলতির খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেন, ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কালী’-র হাত ধরেই পুরসভায় টাকা ও কাটমানির বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান পাস করানো হতো। মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “এই কালীকে ধরলেই বিগত জমানার সব দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাবে”। রাজ্যে কোনো বেআইনি বা ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না এবং দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার তারাতলা এলাকায় একটি তিনতলা লোহার শেডযুক্ত গোডাউন নির্মাণের সময় ছাদ ধসে পড়ে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের নির্দেশে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠিত হয়েছে। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানোর মূল দালাল আব্দুল হামিদ, জমির লিজ প্রাপক শম্ভুনাথ বেহেরা এবং ঠিকাদারের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন। ঘটনার প্রধান ঠিকাদার আজগর হোসেনের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।