প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে আজই ঘটে যেতে পারত এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। চলতি বাজেট অধিবেশনেই বহুচর্চিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বিল বিধানসভার টেবিলে পেশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ বদলে গেল চিত্রনাট্য! আজ রাজ্য বিধানসভায় পেশ হচ্ছে না এই স্পর্শকাতর বিল। হঠাৎ কেন পিছু হঠল নতুন সরকার, আর এর পেছনে কীসের ইঙ্গিত রয়েছে—তা নিয়ে এখন তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক জল্পনা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি বা সামাজিক জটিলতায় জড়াতে চাইছে না সরকার। বিলটি স্থগিত রাখার পেছনে মূল প্রতিবন্ধকতাগুলি হলো, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক এবং উত্তরাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়া বা ব্লু-প্রিন্ট এখনও সম্পূর্ণ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে তফশিলি উপজাতিদের (ST) নিজস্ব রীতিনীতি ও সাংবিধানিক অধিকার এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। এই আইনি বিষয়গুলি খসড়ায় যুক্ত করতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কোনো লুপহোল বা ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ প্রশাসন।
আইনি জটিলতা এড়াতে এবার সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা ‘উত্তরাখণ্ড মডেল’ অনুসরণ করতে চলেছে রাজ্য। সূত্রের খবর, বিলের চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘হাই পাওয়ার কমিটি’ গঠন করা হতে পারে। আজ বিধানসভার অধিবেশনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন। কমিটিতে আইনি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিদের রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ইউসিসি বিল আজ টেবিলে না এলেও বিধানসভার অন্দর কিন্তু উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনা। আজ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল, অ্যান্টি-করাপশন বা দুর্নীতি দমন বিল এবং রাজ্যে দুষ্কৃতী ও গুণ্ডাগিরি দমন সংক্রান্ত অত্যন্ত কড়া বিল। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, বাংলায় এই আইন কার্যকর করার চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঠিক কী হতে চলেছে।