প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল গোটা এলাকা, ঠিক তখনই রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সকাল থেকে দফায় দফায় পথ অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধপধপি এলাকায় পরিস্থিতি যখন চরম হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুইয়ের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি মৃত নাবালিকার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফোনের ওপার থেকে মুখ্যমন্ত্রী শোকার্ত পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে কঠোরতম শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির ব্যবস্থা করার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি এই কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস পাওয়ার পর আমূল বদলে যায় গ্রাউন্ড জিরোর চিত্র। খোদ নির্যাতিতার বাবা আবেগঘন গলায় উত্তেজিত জনতা ও গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে আন্দোলন এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা পথ অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। উনি আমাদের সব দাবি পূরণ করার এবং দোষীদের ফাঁসি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আপনারা দয়া করে এবার অবরোধ তুলে নিন, পুলিশকে তার কাজ করতে দিন।”
মৃতার বাবার এই বার্তার পরই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলেও ধীরে ধীরে কুলপি রোডের অবরোধ সরতে শুরু করে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে কেবল ফোনেই আশ্বাস নয়, নির্যাতিতার পরিবারের চোখের জল মুছতে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) কলকাতার ভবানী ভবনে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকে সরাসরি ডেকে পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁদের মুখোমুখি বসে প্রশাসনিক ও সব রকমের আইনি সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বারুইপুর তথা সমগ্র রাজ্য রাজনীতি।