প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কামারহাটি পুরসভার সাম্প্রতিক রদবদল এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অলক্ষ্যে রাতারাতি পুরসভার রাশ নিজেদের হাতে নেওয়া এবং পদ দখলের এই মরিয়া চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দল এই ধরণের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই রেয়াত করবে না।
কামারহাটি পুরসভার সদ্যপ্রাক্তন চেয়ারম্যান গোপাল সাহা পদত্যাগ করার পরেই সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণে আচমকা বদল আসে। তড়িঘড়ি নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু সুশান্তবাবু বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর দাদা, তাই রাজনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে প্রচার শুরু হয়ে যায় যে কামারহাটি পুরসভা এখন বিজেপির দখলে। এই জল্পনা সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শুনলাম কামারহাটি পুরসভার নাকি পরিবর্তন হয়েছে? আমার কাছে খবর আসেনি। কে না কে ওখানে চেয়ারম্যান হয়ে গেছে। কে কোথা থেকে চেয়ারম্যান হয়ে গেছে।” একই সাথে অত্যন্ত কড়া সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সংযত হয়ে যান, এখনও পর্যন্ত দল কিছু ব্যবস্থা নেইনি।” শমীকবাবুর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে দল এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।
পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি ইতিমধ্যেই দলের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর কাছ থেকে আজ বিকেল ৪টের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। ক্ষুব্ধ শমীকবাবু মন্তব্য করেন যে, রিপোর্ট আসার পর ওই চেয়ারম্যানের চেয়ারটি গঙ্গার জল দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করা হবে। কারণ আইন ও সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাউকে ক্ষমতার অলিন্দে বসতে দেওয়া যায় না।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে সরকার এবং দল সম্পূর্ণ আলাদা দুটি সত্তা। কোনো পুর এলাকায় অচলাবস্থা তৈরি হলে সেখানে প্রশাসক বসানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের, কিন্তু বিজেপির ঝান্ডা ব্যবহার করে যে কেউ যখন-তখন পুরবোর্ড দখল করার সংস্কৃতি তৈরি করবে, তা দল কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
অন্য দিকে, এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন নতুন চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, এই পুরবোর্ডের সাথে বিজেপির কোনো সাংগঠনিক যোগ নেই। পুর পরিষেবা সচল রাখতেই তৃণমূল ও নির্দল কাউন্সিলররা একজোট হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সুশান্তবাবু সাফাই দিলেও, রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই রণংদেহী মূর্তি যে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক বড় বার্তা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।