প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর এক নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়ার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। নিজের জন্মদাতার অপরাধের বিরুদ্ধে সপাটে দাঁড়িয়ে মৃত ছেলের দেহ হাসপাতাল থেকে আনতেও অস্বীকার করলেন মা সন্ধ্যা মণ্ডল। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, যে জঘন্য উপায়ে একটা নিষ্পাপ মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, তার উপযুক্ত শাস্তি বা ‘কর্মফল’ হাতেনাতে পেয়েছে তাঁর ছেলে।
পুলিশি বয়ান অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখতে (Crime Scene Reconstruction) ধৃত প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই নির্দিষ্ট ঝুপড়ি ও পুকুর সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ই পুলিশের নজর এড়িয়ে আকস্মিক এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে সে। শুধু তাই নয়, পুলিশ তাকে আটকাতে গেলে সে রক্ষীদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ আধিকারিকরা পালটা গুলি চালালে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সাধারণত যেকোনো পরিস্থিতিতেই ছেলের মৃত্যুর খবর মায়ের বুকে শেল সম বিঁধে। কিন্তু বারুইপুরের এই ঘটনায় উলটো চিত্র ধরা পড়ল। প্রভাসের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর মা সন্ধ্যা মণ্ডল বুক চাপড়ে কাঁদা তো দূর, উলটে নিজের ছেলের অপকর্মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষুব্ধ মা বলেন—”ও যেমন একটা নিষ্পাপ মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও নিজেও সেরকমই মরেছে। ও যে ধরনের জঘন্য কুকর্ম করেছে, তাতে ওর এই পরিণতিতে আমার কোনো আপত্তি বা মনে কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই। ও নিজের কর্মের ফল পেয়েছে।” পরিবারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রভাস তাঁদের কোনো কথা শুনত না, নেশাগ্রস্ত থাকত এবং সে যে অন্যায় করেছে তার পর তার মৃতদেহ নেওয়ার জন্য পরিবারের কেউ হাসপাতালে পা রাখবে না।
গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় এক নাবালিকাকে অপহরণ করে পাশবিক অত্যাচার চালানোর পর বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথম প্রভাস মণ্ডলকেই পাকড়াও করে। তাকে জেরা করেই বাকি তথ্য এবং নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই এই মামলায় বাকি অভিযুক্তদেরও পুলিশ জালে তুলেছে এবং কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তবে এই আবহে নিজের অপরাধী ছেলের মৃত্যুর পর মায়ের এই নৈতিক ও সাহসী অবস্থান নেটদুনিয়ায় এবং সাধারণ মানুষের দরবারে এক বিরাট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।