প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-হাইকোর্টের রক্ষাকবচ কি তবে আলগা হতে চলেছে? তদন্তকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও কেন হাজিরা এড়ালেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ? বিধাননগর আদালতের কড়া নির্দেশের পর পর পর দু’দিন হাজিরা না দেওয়ায় এখন চরম নাটকীয় মোড় নিলো ‘ডিজে’ (DJ) মন্তব্য মামলা। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— সিআইডি-র কঠোর পদক্ষেপের আবহে শুক্রবার হাইকোর্টের এজলাসে কী ঘটতে চলেছে?
নির্বাচনী প্রচারের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিধাননগর মহকুমা আদালত। সেই মতো প্রথম দফায় ৩০ জুন এবং আজ, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় তাঁকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID) এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখা মেলেনি তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের।
গোয়েন্দাদের সরাসরি অভিযোগ, আদালতের আইনি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন সাংসদ। এই অসহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই আদালতের কাছে অভিষেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তড়িঘড়ি আর্জি জানিয়েছে সিআইডি।
হাজিরা এড়াতে এবং সিআইডি-র তলবের ওপর স্থগিতাদেশ চাইতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তেই আদালত তাঁকে গ্রেফতারি থেকে আইনি সুরক্ষাকবচ দিয়েছিল।
আইনজীবী মহলের মতে, যদি সেই শর্তই লঙ্ঘিত হয়, তবে রক্ষাকবচ বজায় রাখা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে যাবে। হাইকোর্ট রাজ্যকেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অভিযুক্ত যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগিতা করেন, তবে রাজ্য যেন আইনানুগ পদক্ষেপের জন্য উপযুক্ত আবেদন জানায়।
আগামী শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। একদিকে সুরক্ষাকবচ খারিজের দাবিতে সিআইডি-র আইনি চাপ, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ে অভিষেকের পালটা চাল— সব মিলিয়ে সপ্তাহের শেষেই নির্ধারিত হতে চলেছে এই হাইপ্রোফাইল মামলার ভবিষ্যৎ।