প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ধৃত মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর তোলপাড় গোটা রাজ্য। এই চরম নাটকীয় পরিণতির পরেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে এক অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং তাৎপর্যপূর্ণ বয়ান দিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বারুইপুর কাণ্ডের মূল চক্রী প্রভাসের এনকাউন্টারকে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে কৌস্তভ বাগচী এক বড় শংসাপত্র দিলেন রাজ্য প্রশাসনকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আজ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হল যে এই প্রশাসন দুর্বল নয়।” কৌস্তভের মতে, এতদিন ধরে রাজ্যে অপরাধীদের দাপট এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল, আজকের এই কড়া পদক্ষেপের পর সমাজবিরোধী ও জঘন্য অপরাধীদের বুকে কাঁপন ধরবে। প্রশাসন যে মায়াদয়া না দেখিয়ে কড়া হাতে রাশ ধরতে পারে, আজ এই এনকাউন্টারের মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং অস্ত্র উদ্ধার করতে বারুইপুরের নির্দিষ্ট এলাকায় যায় পুলিশ। সেই সময় আচমকাই এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলভার ছিনতাই করে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় প্রভাস। শুধু তাই নয়, সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। আত্মরক্ষার তাগিদে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই বুক লক্ষ্য করে গুলি লাগে ওই দুষ্কৃতীর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পেশায় আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী যেখানে পুলিশের এই ভূমিকাকে “দৃঢ় প্রশাসনের নয়া নজির” হিসেবে দেখছেন, সেখানে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা শুরু করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ। আইনের তোয়াক্কা না করে এই ধরনের এনকাউন্টার কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীদের একাংশ।