প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Incident) গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুকে নিছক ‘গণপিটুনি’ বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, “ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে নাম এবং পরিচয় নিশ্চিত করেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে”। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক উসকানি ও উগ্রপন্থী মৌলবাদী শক্তির হাত থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি এবং পরে সম্পূর্ণ নির্দোষ নিহত যুবক ইন্দ্রজিতের জীর্ণ বাসভবনে যান। সেখানে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এটা কোনো সাধারণ গণপিটুনি নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে, নাম-পরিচয় দেখেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ভোটে যারা মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের বড় উসকানি রয়েছে এর পেছনে。 এমনকি কোনো র‌্যাডিক্যাল মৌলবাদী গোষ্ঠী এর সাথে জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”

পুত্রশোকে ভেঙে পড়া অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়।ইন্দ্রজিতের দাদা বাপী মণ্ডলের হাতে সরাসরি সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগপত্র (চাকরি) হস্তান্তর করা হয়।প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ইন্দ্রজিতের ভেঙে পড়া ঘরটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ এবং সিসিটিভি খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই পুলিশি তৎপরতায় বকখালি ও দিঘার মতো বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্দার আড়াল থেকে যারা ফোন বা বার্তার মাধ্যমে এই হিংসায় উসকানি দিয়েছে, দলমত নির্বিশেষে তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। এই গোটা তদন্তপ্রক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব নজরদারিতে চলবে এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে কাস্টডি ট্রায়ালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে।