প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় নাটকীয় মোড়। সমস্ত জল্পনা এবং প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে থমকে গেল শারীরিক অসুস্থতার জেরে। আজ, শনিবার কলকাতার হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, আচমকা তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। দলীয় এবং পারিবারিক সূত্রে খবর, অসুস্থতার কারণে আজ বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেননি তিনি।গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত অনুব্রতর কলকাতা সফরের সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এই অসুস্থতা কি শুধুই শারীরিক, নাকি এর নেপথ্যে কোনো বড় ‘কৌশলগত দূরত্ব’ বা রাজনৈতিক চাল রয়েছে?

বেশ কিছু দিন ধরেই আইপ্যাক (I-PAC) এবং তৃণমূলের অন্দরের একাংশের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বীরভূমের এই বর্ষীয়ান নেতা। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে তিনি খোলাখুলিই জানিয়েছিলেন, “সম্মান পেলে দল করব, না হলে চুপচাপ থাকব।” এর মাঝেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী শিবিরে অনুব্রত মণ্ডলের যোগদানের খবর দাবানলের মতো ছড়ায়। জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার বিধানসভায় প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর, সেখান থেকেই এক শীর্ষ নেতা সরাসরি ফোন করেছিলেন অনুব্রতকে। ফোনে তাঁদের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয় এবং আজ বিকেল ৩টের সময় কলকাতায় ঋতব্রত শিবিরের জেলাওয়ারী বৈঠকে অনুব্রতকে বীরভূমের জেলা সভাপতির মতো বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

ইতিমধ্যেই কাজল শেখ, চন্দ্রনাথ সিনহা, অভিজিৎ সিংহের মতো বীরভূমের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ঋতব্রত শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। ফলে মনে করা হচ্ছিল, আজই মমতাসঙ্গ ত্যাগ করে অনুব্রতর নতুন ইনিংসে পা রাখার বিষয়টি সরকারি সিলমোহর পেয়ে যাবে।

শনিবারের এই মেগা রাজনৈতিক যোগদান ঘিরে যখন গোটা রাজ্যের নজর কলকাতার দিকে, ঠিক তখনই অনুব্রতর ‘জ্বর’ পুরো প্রক্রিয়ায় সাময়িক ব্রেক কষে দিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে এই মুহূর্তে তিনি বোলপুরের বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, অনুব্রতর এই কলকাতা না যাওয়া জল্পনার অবসান ঘটাচ্ছে না, বরং রহস্য ও ধোঁয়াশা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। অসুস্থতা কাটার পর আগামী কয়েকদিনে তাঁর রাজনৈতিক চাল কী হয়, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।