• প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পোশাকের চেনা পরিমণ্ডলে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে চলা বাধ্যতামূলক ‘নীল-সাদা’ ইউনিফর্মের অধ্যায় এবার পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে। ২০২২ সালের আগে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলের যে নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পোশাকের রঙ এবং নকশা ছিল, সেই ঐতিহ্যকেই পুনরায় ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। নতুন এই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের পড়ুয়ারা তাদের নিজ নিজ স্কুলের পুরনো নিজস্ব ইউনিফর্ম পরে ক্লাসে যোগ দিতে পারবে।

শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিবের স্বাক্ষর করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) তাঁদের নিজ নিজ এলাকার স্কুলগুলির ইউনিফর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের আগে কোন স্কুলে কী রঙের কাপড়, ফ্রক, শার্ট বা সালোয়ার ব্যবহার হতো, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখতে একটি গুগল ফর্মের মাধ্যমে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই সামগ্রিক সমীক্ষা শেষ করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলাভিত্তিক চূড়ান্ত রূপরেখা রাজ্য শিক্ষা দফতরে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি ২০২৬ সালের স্কুল ইউনিফর্ম প্রকল্পের কাজকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে পড়ুয়াদের পোশাকের সঠিক মাপ (Measurement Entry) এবং চূড়ান্ত কাজের নির্দেশ বা ‘ফাইনাল ওয়ার্ক অর্ডার’ আপলোড করার শেষ তারিখ আগামী ১৮ জুলাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) দফতরের মাধ্যমে সঠিক সময়ে কাপড় উৎপাদন ও বণ্টনের সুবিধার জন্য এই সময়সীমার মধ্যে তথ্য নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পোশাকের রঙ, নকশা এবং স্কুলের নিজস্ব লোগো ফিরে এলেও পড়ুয়াদের আর্থিক নিয়মে কোনো বদল হচ্ছে না। আগের মতোই রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সমস্ত যোগ্য পড়ুয়াকে দুই সেট করে স্কুল ইউনিফর্ম সরবরাহ করবে। আগামী ১৪ অগস্টের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে এই বছরের পোশাক বিতরণের কাজ ১০০ শতাংশ শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলগুলির নিজস্ব স্বকীয়তা, প্রাচীন ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতেই সরকারের এই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রাচীন স্কুলের নিজস্ব চেনা পরিচয় আবার ফিরে আসবে, যা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রাক্তন পড়ুয়া মহলে এক মিশ্র ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।