প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তৈরি করা ‘ক্যাশ-ফর-জব’ (টাকার বিনিময়ে চাকরি) মামলায় বড়সড় মোড়! অবশেষে আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচ পেলেন মেদিনীপুরের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন এখনই তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না। তবে এই আপাত স্বস্তির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক চরম শর্ত, যা কার্যত তাঁর স্বাধীনতায় বড়সড় রাশ টেনে ধরল। আইনি রক্ষাকবচ বজায় রাখতে গেলে মানস ভুঁইয়াকে নিজের নির্বাচনী গড় অর্থাৎ পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা এলাকার লক্ষ্মণরেখার মধ্যেই বন্দি থাকতে হবে।
উচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রী মুক্তভাবে সব জায়গায় যাতায়াত করতে পারবেন না। সবং পুলিশের আগাম অনুমতি ছাড়া তিনি নিজের থানার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে পা রাখতে পারবেন না। তিনি যাতে কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সেই কারণে অবিলম্বে তাঁর পাসপোর্টটি পুলিশের হেফাজতে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেচ দফতরে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেই মামলার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
এই গোটা মামলার সূত্রপাত সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বিকাশ কুমার টুং-এর একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীর দাবি, তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোতে তাঁর স্ত্রীর চাকরি করে দেওয়ার নাম করে তৎকালীন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি মতো গত ১ মার্চ ওই মহিলা চাকরিতে যোগও দেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মাত্র দুই মাস কাটতে না কাটতেই, অর্থাৎ ৬ মে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। টাকা ও কাজ দুটোই হারিয়ে শেষ পর্যন্ত গত ১০ জুন সবং থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করে ওই পরিবার।
কাকতালীয় বিষয় হলো, এই মামলা রুজু হওয়ার ঠিক কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। দল ছাড়ার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা এবং আদালতের এই ‘শর্তসাপেক্ষ মুক্তি’ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চলছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গ্রেফতারি এড়ালেও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং এলাকা বন্দি করার এই নির্দেশ কার্যত প্রাক্তন মন্ত্রীকে এক অদৃশ্য আইনি খাঁচায় আটকে দিল। এই তদন্তের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।