প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-১৯ বছরের দীর্ঘ ও রুদ্ধশ্বাস নির্বাসনের অবসান! অবশেষে কলকাতার রাজপথে ফিরছেন বহুল বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ অগাস্ট কলকাতার সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে সরাসরি হাজির হতে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশক পর তাঁর এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার বুকে কট্টরপন্থীদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের জেরে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার একপ্রকার বাধ্য হয়েই তসলিমা নাসরিনকে শহরছাড়া করেছিল। সেনা নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল কলকাতাকে। এরপর তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনেও তাঁর বাংলায় ফেরার কোনো রাস্তা খোলেনি। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর, সব বাধা দূর করে কলকাতায় পা রাখছেন ‘লজ্জা’-র লেখিকা।
জানা গেছে, আগামী ১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি মৌলবাদবিরোধী কবি ও সাহিত্যিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বেসিক ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (HRBFF)-এর মতো সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা তসলিমা নাসরিনকে “ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক” হিসেবে এই মঞ্চে স্বাগত জানাচ্ছেন। তসলিমা নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই মেগা কামব্যাকের কথা নিশ্চিত করেছেন।
এই সফরকে ঘিরে কোনো প্রকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তসলিমা নাসরিনের তিন দিনের কলকাতা সফরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস মিলেছে খোদ প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে। শুধু তাই নয়, রবীন্দ্র সদনের এই মেগা ইভেন্টে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে। ১ অগাস্ট কবিতা পাঠ ও দীর্ঘ নির্বাসনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর, ২ অগাস্ট একটি হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকও করবেন লেখিকা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি সাহিত্যিক সফর নয়, বরং রাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মৌলবাদ দমনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তসলিমার এই কলকাতা সফর শেষ পর্যন্ত কেমন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।