প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের দুপুরের খাবারে এক অভূতপূর্ব বদল আসতে চলেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতার সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের পুরো চাকাটাই ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবার আর সাধারণ স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা চেনা চেনা রেশনের চাল-ডাল নয়, খোদ কলকাতার ১,৮০০-র বেশি স্কুলের প্রায় ১ লক্ষ পড়ুয়ার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মেগা দায়িত্ব হাতে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্থা ‘ইসকন’ (ISKCON)।আজ ইসকনের রথযাত্রা উৎসবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই সংক্রান্ত বিতর্কের মাঝে এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে এক তীব্র বিতর্ক। আসল প্রশ্ন উঠছে মেনু নিয়ে—বাঙালি পড়ুয়াদের পাতে কি তবে আর ডিম পড়বে না?সূত্রের খবর, ইসকন তাদের নিজস্ব ‘সাত্ত্বিক’ রীতিনীতি মেনে সম্পূর্ণ পেঁয়াজ, রসুন এবং ডিম ছাড়া নিরামিষ আহার পরিবেশন করবে। ডিমের বদলে পড়ুয়াদের প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে মেনুতে যুক্ত করা হচ্ছে পনির, সয়াবিন, রাজমা ও পুষ্টিকর ডাল। আর এই ‘ডিম বনাম সাত্ত্বিক আহার’ নিয়েই নেটপাড়ায় ও অভিভাবকমহলে রীতিমতো চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অনেকেই যখন ইসকনের উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত রান্নাঘরের হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ঠিক তখনই অন্য একটি অংশ প্রশ্ন তুলছেন পুষ্টির অধিকার নিয়ে।

এদিকে সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ সাফ জানিয়েছেন, “যাঁরা ডিম নিয়ে বিতর্ক করতে চান, তাঁরা আরও কয়েকদিন আলোচনা করতে থাকুন। আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেরাটা দেব।” রাজ্য সরকারের এই মেগা প্রজেক্টে খুদে পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দও এক ধাক্কায় ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই খরচের বোঝা রাজ্য সরকার নিজেই বহন করবে।

ইসকনের বিশ্বমানের সেন্ট্রাল কিচেন থেকে প্রতিদিন তৈরি হয়ে এই পুষ্টিকর ‘প্রসাদ’ পৌঁছে যাবে স্কুলগুলিতে। তবে ডিমের এই হঠাৎ বিদায়ে স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হারে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজকর্মী ও পুষ্টিবিদদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া এই নতুন ব্যবস্থা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় কতটা ইতিবাচক বদল আনে, এখন সেটাই দেখার।