প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন (ISKCON) মন্দিরের ভেতরে যে এমন এক অমূল্য আন্তর্জাতিক ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, তা হয়তো খোদ কলকাতার অনেক মানুষই জানেন না। কিন্তু আজ রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহাসিক গোপন সত্যকে বিশ্বের দরবারে আনতে এক নজিরবিহীন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিলোত্তমার একটি বিশেষ বাড়িকে সরাসরি ‘হেরিটেজ সাইট’ বা রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করার জন্য বড় বার্তা দিলেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ইসকন ভক্তদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।আসলে এই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইসকনের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের স্মৃতিবিজড়িত কক্ষটি। যিনি একা হাতে কলকাতার মাটি থেকে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জয়পতাকা উড়িয়েছিলেন, তাঁর জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কেটেছে কলকাতার এই বিশেষ স্থানটিতে।

আজ রথযাত্রার উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী গভীর আবেগে ভেসে যান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শ্রীল প্রভুপাদ ১০০টিরও বেশি দেশে ভারতের রথযাত্রা উৎসব এবং সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বজনীন করে তুলতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন জাতীয়তাবাদী এবং সনাতনী হিসেবে কলকাতার এই পুণ্যভূমি থেকে রথযাত্রার সূচনা করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমাদের দাবি, কলকাতায় শ্রীল প্রভুপাদের এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিকে অবিলম্বে রাজ্য সরকারের তরফে সরকারি ‘হেরিটেজ সাইট’ ঘোষণা করা হোক।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং গবেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাড়িটি যদি হেরিটেজের তকমা পায়, তবে কলকাতার বুকে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই আধ্যাত্মিক ইতিহাস ছুঁয়ে দেখতে কলকাতায় ভিড় জমাবেন। রথযাত্রার আনন্দের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘হেরিটেজ কার্ড’ খেলা যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে এখন তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে।