প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতীয় রেলের ইতিহাসে আজ ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা এতদিন কল্পবিজ্ঞানের গল্প বলে মনে হতো! কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার নেই, ইঞ্জিনে এক ফোঁটা ডিজেল বা কয়লাও ভরতে হবে না—অথচ তীব্র গতিতে ট্র্যাক কাঁপিয়ে ছুটে যাবে আস্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন! আজ, শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের এই প্রথম ‘জাদুকরী’ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের পর ভারতই প্রথম এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন করে দেখাল। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করছে।
এই ট্রেনের আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর ইঞ্জিনে। সাধারণ ট্রেনের মতো এটি পরিবেশ দূষণকারী ধোঁয়া ছাড়বে না, বরং এর ভেতরের ‘হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল’ বাতাস থেকে অক্সিজেন এবং ট্যাঙ্কের হাইড্রোজেন মিশিয়ে অনবোর্ড বিদ্যুৎ তৈরি করবে। আর এর ফলে ট্রেনের সাইলেন্সর পাইপ দিয়ে ধোঁয়ার বদলে বের হবে বিশুদ্ধ জলের বাষ্প এবং সামান্য তাপ! অর্থাৎ, ট্রেন চললে প্রকৃতিতে দূষণ ছড়ানোর কোনো সুযোগই নেই।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে (যেমন জার্মানি বা চীন) যে হাইড্রোজেন ট্রেনগুলো চলে, সেগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪টি কোচের হয়ে থাকে। কিন্তু ভারত এখানেও চমক দেখিয়েছে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF) এবং মেধা সার্ভো ড্রাইভস যৌথভাবে বিশ্বের দীর্ঘতম ১০ কোচের হাইড্রোজেন ট্রেন তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ৩,২০০ হর্সপাওয়ারের এই দানবীয় ইঞ্জিনটি একবারে প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম।
হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস হওয়ায় এই ট্রেনে সুরক্ষার জন্য বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ‘লিক ডিটেক্টর’, ‘ফ্লেম ডিটেক্টর’ এবং ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং সিস্টেম। সবথেকে বড় সুখবর হলো সাধারণ মানুষের পকেটের কথা ভেবে। জানা গিয়েছে, এই ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া মাত্র ২৫ টাকা, যা সাধারণ বাসের ভাড়ার চেয়েও অনেক কম!
রেল মন্ত্রকের ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ প্রকল্পের অধীনে ভারতের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আগামী দিনে দেশের কালকা-শিমলার মতো সমস্ত হেরিটেজ রুটের চেহারা বদলে দিতে চলেছে। ভারতের এই প্রযুক্তির জয়জয়কার এখন বিশ্বজুড়ে।