প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্বজিৎ দাসের পর এবার রাজারহাটের দাপুটে নেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে চরম নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁর শিবিরে যোগ দেন তাপস। তবে ঋতব্রতর ঘরে পৌঁছানোর আগের মুহূর্তটি তাঁর জন্য ছিল চরম অসম্মানজনক। দল ছাড়ার খবর চাউর হতেই আজ সকালে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ডিম হাতে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তিনি বাড়ি থেকে বের হতেই তাঁকে লক্ষ্য করে “চোর চোর” স্লোগান এবং তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হয়, যাকে রাজনৈতিক মহল “ডিম থেরাপি” বলে কটাক্ষ করছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন সিপিমআইএম থেকে আসা এই বর্ষীয়ান নেতা। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর ভরসা রেখে টিকিট দিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে মাত্র ৩১৬ ভোটের সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। তাপসের এই পরাজয়ের পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে দাবি করেছিলেন, তাপসকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেত্রী পাশে থাকা সত্ত্বেও একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক ৪ দিন আগে তাঁর এই দলবদল কালীঘাট শিবিরের জন্য অনেক বড় ধাক্কা।
গত ২৪ ঘণ্টায় একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূল। গতকালই রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছেন কোয়েল মল্লিক এবং দল ছেড়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। ভাঙন রুখতে গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে লাইভে বলেছিলেন, “যাঁরা যাওয়ার, দয়া করে ২১ জুলাইয়ের আগেই চলে যান”। নেত্রীর সেই ডেডলাইনের পরদিনই আজ বিশ্বজিৎ দাসের পাশাপাশি তাপস চট্টোপাধ্যায়ও ঋতব্রতের শিবিরে নাম লিখিয়ে মমতাকে আরও নিঃসঙ্গ করে দিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিক্ষোভ ও ডিম হামলার মুখে পড়েও তাপসের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ঋতব্রত শিবিরের সাংগঠনিক গুরুত্ব কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।