প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ, ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের হাইভোল্টেজ বাদল অধিবেশন (Monsoon Session)। ঠিক এই আবহে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের ছাত্র ও যুব সমাজ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যুবভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) দিল্লির যন্তরমন্তরে দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন এই আন্দোলনের সমর্থনে অনশনরত প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-কে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির কারণে গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে (Safdarjung Hospital) স্থানান্তরিত করে। এই ঘটনাকে আন্দোলনকারীরা “দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম” আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং আজ ২০ জুলাই যন্তরমন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad) অভিযানের ডাক দেন। হাজার হাজার ক্ষুব্ধ ছাত্র ও আন্দোলনকারীদের এই ঝোড়ো মিছিল রুখতে এবং সংসদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সকাল থেকেই নয়াদিল্লি জেলাকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো নয়াদিল্লি জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (যা আগে CrPC-র ১৪৪ ধারা ছিল) জারি করা হয়েছে। ফলে ৫ বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দিল্লি পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আজকের এই সংসদ ভবন অভিযানের জন্য আন্দোলনকারীরা কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেয়নি এবং তাদের কোনো অনুমতি দেওয়াও হয়নি। যন্তরমন্তর চত্বর, প্যাটেল চক গোলচত্বর এবং নতুন সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার সমস্ত প্রধান রাস্তায় মাল্টি-লেয়ার লোহার ব্যারিকেড, কাঁটাতার এবং দাঙ্গা দমনকারী বাহিনী (Riot Cops) মোতায়েন করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তরমন্তর ছাড়া দিল্লির অন্য কোথাও পা বাড়ালে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২২৩ ধারা অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।