প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বুধবার সাতসকালেই কলকাতার রাজপথে তৈরি হলো তীব্র প্রশাসনিক উত্তেজনা। হকার ও ফুটপাথ দখলদারি মুক্ত করতে এবং বর্ষার মরশুমে জল জমার প্রকোপ রুখতে আচমকাই সরেজমিনে অ্যাকশন মোডে নামলেন রাজ্যের নতুন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতা পৌরনিগমের পুর কমিশনার এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এদিন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, ধর্মতলা ও পার্ক স্ট্রিট চত্বরে ঝটিকা সফর করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শন চলাকালীন ফুটপাথের একটি বড় অংশ জুড়ে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা এবং পথচারীদের হাঁটার জায়গা সম্পূর্ণ ব্লক হতে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বেশ কিছু জায়গায় ফুটপাথ দখল করে অতিরিক্ত পসরা সাজিয়ে রাখায় ব্যবসায়ীদের রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনাস্থল থেকেই মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ফুটপাথে কোনও অবস্থাতেই নিয়ম ভাঙা বরদাস্ত করবে না নতুন সরকার। তিনি হকারদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ফুটপাথে দু’টো লাইন করে কোনও দোকান চালানো যাবে না। পথচারীদের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা সম্পূর্ণ ফাঁকা ছাড়তে হবে, তবেই ব্যবসা করা যাবে।” এই নির্দেশ অমান্য করলে প্রশাসন যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করবে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

তবে শুধু হকার সরানো নয়, ওল্ড ক্যালকাটার ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া তথা কলেজ স্ট্রিটকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার এক বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কলেজ স্ট্রিটকে লন্ডনের বিখ্যাত অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সম্পূর্ণ দূষনমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকেলস জোন’ হিসেবে তৈরি করার ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বর্তমানের অস্বাস্থ্যকর পরিকাঠামো বদলে হকারদের জন্য আধুনিক ও একই ডিজাইনের সুন্দর স্টল তৈরি করে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। ওই জোনে কোনও সাধারণ গাড়ি চলবে না, শুধুমাত্র বইপ্রেমীদের হাঁটার ব্যবস্থা এবং প্রবীণদের জন্য ব্যাটারিচালিত কারের ব্যবস্থা থাকবে।

উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি বর্ষার মরশুমে শহরের জল জমার ভোগান্তি রুখতে নিকাশি ড্রেন ও খালের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। জমা জলের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা বা শর্ট সার্কিটের মতো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবগঠিত রাজ্য সরকারের এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানের পর কলকাতার ফুটপাথ ও নিকাশি ব্যবস্থার ভোল কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার।