প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রদবদল ঘটাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এবার থেকে আর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Register role for Birth & Death) ইস্যু করতে পারবেন না গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পুরসভার চেয়ারম্যানরা। আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় (X এবং Instagram) একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং নাগরিক পরিষেবাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে রাজ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে এক বিরাট ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে। জনপরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য”। তিনি কড়া সুরে বলেন, “দেশের কোনো রাজ্যে পঞ্চায়েত প্রধান বা পুরসভার চেয়ারম্যানের জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার নেই। এটা জ্যোতি বসুর সময় সিপিএম করে গিয়েছিল। আমাদের ১৫ বছরের জঞ্জাল সাফ করতে হচ্ছে”। ভুয়ো শংসাপত্র রুখতেই যে এই পদক্ষেপ, তা তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা এবং সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সম্পূর্ণ সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে এই কাজ পরিচালিত হবে। প্রতিটি রেভিনিউ ডিস্ট্রিক্টের জেলাশাসক ও কালেক্টর (DM & Collector) এখন থেকে ‘ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্ট্রার’ হিসেবে কাজ করবেন। প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম-মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব্লক মেডিকেল অফিসার (BMOH), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট এবং মেডিকেল কলেজের প্রধানরা সরাসরি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করবেন। ভুয়ো রেকর্ড ও দুর্নীতি রুখতে প্রতিটি পঞ্চায়েত ও পুরসভায় এবার থেকে ডেডিকেটেড সরকারি অফিসারদের (Government Officers) রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ করা হচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, পূর্বতন বোর্ডের আমলে প্রচুর ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরির ঘটনা ধরা পড়েছে, যা রুখতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত। তবে প্রকৃত নাগরিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। পুরনো সমস্ত রেজিস্টার সেভ ও স্ক্যান করে সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা হবে।