প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার ধর্মতলায় চলমান ছাত্র আন্দোলনের মাঝে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনার আঁচ এবার এসে পড়ল রাজ্য বিধানসভায়। ধর্মতলার বুকে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া এই ন্যক্কারজনক নিগ্রহের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ শনিবার বিধানসভা চত্বরে কালো ব্যাচ পরে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হলেন বিজেপির পরিষদীয় দলসহ সমস্ত বিধায়কেরা। বিধানসভায় অবস্থিত ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তির পাদদেশে বসে এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানান তাঁরা।
গতকাল শুক্রবার কলকাতায় শিক্ষা সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে Cockroach Janta Party (CJP) সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা চত্বরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। সেই সময় কর্তব্যরত সংবাদমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে টার্গেট করে মারধর ও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সরব হয়ে বিজেপির মুখ্য সচেতক তথা পরিষদীয় নেতা শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আন্দোলনের নামে সংবাদমাধ্যমের ওপর এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি নগ্ন আক্রমণ। যারা বা যে সমস্ত দুষ্কৃতীরা সাংবাদিকদের ওপর হাত তুলেছে, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গুন্ডা দমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
বিজেপি বিধায়কদের এই প্রতিবাদের মাঝেই আজ বিধানসভার অধিবেশনে ধর্মতলার অশান্তি ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে কড়া বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রশাসন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তিনি বলেন, ধর্মতলার অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “যারা সাংবাদিকদের ওপর এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা কোনো সাধারণ ছাত্র বা CJP-র সাধারণ আন্দোলনকারী নয়। তারা আসলে দুষ্কৃতী।” এই প্রথমবার এই ধরনের ঘটনা রুখতে রাজ্যে কঠোর গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করার কথাও জানান তিনি।