প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে দানা বাঁধল এক মারাত্মক ওষুধ কেলেঙ্কারি। ডায়মন্ড হারবারের এই মেগা হেলথ ক্যাম্পগুলোতে রোগীদের চিকিৎসার নামে মেয়াদ উত্তীর্ণ বা এক্সপায়ারড ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। খবরের সত্যতা যাচাই করে এই মুহূর্তে এই বিশাল কেলেঙ্কারির তদন্তে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল (State Drug Control) বিভাগ।

গতকাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক অস্থায়ী ও স্থায়ী ক্যম্পে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা একযোগে অতর্কিত অভিযান চালান।সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল মূলত নিশানা করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলান ইকো ক্রিক রিসর্ট (Pailan Eco Creek Resort)-এ চলা ক্যাম্পটিকে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য প্রান্তের ‘সেবাশ্রয়’ মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতেও হানা দেওয়া হয়। এই অভিযান চলাকালীন ক্যাম্পে মজুত রাখা এবং চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও স্যালাইনের বোতল বা নমুনা বাজেয়াপ্ত (Seized) করেছেন ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা।

অভিযোগ উঠেছে, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার নামে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে মারাত্মক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ওষুধগুলোর আসল কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত নমুনা দ্রুত কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে (Drug Testing Lab) পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবের রিপোর্ট আসার পরেই স্পষ্ট হবে যে রোগীদের শরীরে বিষাক্ত বা অকেজো ওষুধ পুশ করা হয়েছিল কি না।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই স্বাস্থ্য শিবির নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যে ক্ষমতাসীন নতুন বিজেপি সরকার অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পকে একটি “বিরাট কেলেঙ্কারি” (Massive Scam) বলে আখ্যা দিয়েছেন। ভুল চিকিৎসার জেরে একাধিক মানুষের অঙ্গহানির অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই পুলিশ, সিআইডি (CID) এবং রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল যৌথভাবে এই মামলার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে কোটি কোটি টাকার ওষুধ ঘুরপথে এই ক্যাম্পে আনা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।