প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাত বাড়লেই কি অ্যাপ-ক্যাব বা হলুদ ট্যাক্সির অতিরিক্ত ভাড়ার জুলুম আর বুকিং বাতিলের হয়রানিতে পকেট খালি হচ্ছিল? সাধারণ নিত্যযাত্রী ও নাইট শিফটের কর্মীদের সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে এবার কলকাতার রাজপথে এক নজিরবিহীন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নামিয়ে দিল রাজ্যের পরিবহণ দফতর। ট্রেনের দূরপাল্লার যাত্রী, রাতের মেট্রো এবং বিমানযাত্রীদের গভীর রাতের ভোগান্তি চিরতরে শেষ করতে শহরের বুকে এক ধাক্কায় একগুচ্ছ রুটে বাড়ানো হলো সরকারি বাসের নৈশকালীন ট্রিপ।পরিবহণ দফতরের এই একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে মাঝরাতের কলকাতা এবং তার সংলগ্ন শহরতলির সম্পূর্ণ যাতায়াত পরিকাঠামো আমূল বদলে যেতে চলেছে।

সাধারণত রাত ১০টার পর কলকাতার রাজপথ সরকারি বাসশূন্য হয়ে পড়লেও, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী মেট্রো, দূরপাল্লার ট্রেন এবং বিমানের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নির্দিষ্ট রুটগুলির শেষ ট্রিপের সময়সীমা একধাক্কায় মাঝরাত ও ভোররাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাওড়া স্টেশন থেকে নিউটাউন (তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি হাবের কর্মীদের জন্য লাইফলাইন), হাওড়া স্টেশন থেকে নীলগঞ্জ (ব্যারাকপুর), ডানলপ থেকে বালিগঞ্জ স্টেশন। নৈশকালীন ২৪ ঘণ্টার অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে চাঙ্গা করতে এবং হাসপাতাল ও রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে এই রুটগুলিতেও বাসের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, শিয়ালদহ থেকে ঠাকুরপুকুর, কাঁকুড়গাছি থেকে বেহালা।

হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন কিংবা বিমানবন্দর থেকে মাঝরাতে বেরিয়েই সাধারণ মানুষকে যেভাবে অসাধু চালকদের চড়া ভাড়ার শিকার হতে হতো, সরকারি বাসের এই মেগা এন্ট্রি সেই সিন্ডিকেট রাজের কোমর ভেঙে দেবে। শুধু পকেটের সাশ্রয়ই নয়, নতুন বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগে নৈশকালীন যাতায়াতে বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলাদের ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে রাজাবাজার, উল্টোডাঙা ও বারাসত রুটেও ধাপে ধাপে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।