প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বড়সড় রাজনৈতিক নাশকতার এক ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF). পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার হওয়া তার সুন্দরী বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরার পর শনিবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ধৃত জঙ্গি মডিউলের মূল নিশানায় ছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর নজর রাখার এবং তাঁর প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির নিখুঁত বিবরণ পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। মুখ্যমন্ত্রী কখন নিউটাউনের বাসভবন থেকে বেরোচ্ছেন, তাঁর কনভয়ের গাড়ি কোথায় পার্ক করা থাকছে, কোন রুট দিয়ে তিনি যাবেন—এই সমস্ত স্পর্শকাতর তথ্যের লাইভ আপডেট এনক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে সীমান্ত পারে পাচার করা হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, জঙ্গিদের হিটলিস্টে ছিলেন রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও। তবে তাঁর উপর সরাসরি হামলার পাশাপাশি আরও এক কুৎসিত ছক কষেছিল হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতা। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতাকে ব্যবহার করে উমেশ রাইয়ের ছেলেকে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলার জাল বোনা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রীর ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে অপহরণ করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিল এই চক্র।

এসটিএফ-এর সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উমেশ রাইয়ের ছেলেকে অপহরণ করার পর তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আন্তর্জাতিক মুক্তিপণ দাবি করার পরিকল্পনা ছিল হামিমের। এই ব্ল্যাকমেল ও অপহরণের মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভারী অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কেনার ছক কষেছিল জইশ মডিউলটি। সেই অস্ত্রের সাহায্যেই পরবর্তীতে এ রাজ্যে এবং দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় পুলিশের উর্দি পরে বড়সড় নাশকতামূলক আত্মঘাতী হামলা চালানোর নীল নকশা তৈরি হয়েছিল।

ধৃতদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই মেক্সিকো ও লন্ডনের আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে, যা পাকিস্তানের ‘সাজ্জাদ ভাট’ জঙ্গি গোষ্ঠীর শীর্ষ হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো। এই ঘটনায় দেশজুড়ে থাকা জইশ-এর স্লিপার সেলের খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে পুলিশ।