প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ও বালি ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের কোটি কোটি টাকার বেআইনি সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে ব্যাপক অ্যাকশন শুরু করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর টুলু নিজে পলাতক হলেও, এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল তার খোদ খাস ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক। গত রবিবার রাতে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে সীতেশকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সীতেশ প্রামাণিক সাধারণ কোনো কর্মচারী ছিলেন না। টুলু মণ্ডলের গোটা ‘ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট’ এবং বেআইনি কারবারের সিংহভাগ দেখভাল ও পরিচালনার মূল দায়িত্ব ছিল এই সীতেশের ওপর। বিভিন্ন মহলের সাথে অবৈধ লিয়াজোঁ রক্ষা করা থেকে শুরু করে টাকার আদান-প্রদান—সবটাই হতো এই ম্যানেজারের হাত ধরে।

বিগত কয়েকদিনে টুলু মণ্ডলের শ্যালক তথা অন্যতম ম্যানেজার মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর পরেই মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার রাতে টুলুর ভাগ্নে শেখ ওয়াসিমকেও শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ, যে মূলত নেপালে গা-ঢাকা দেওয়ার ছক কষেছিল। এবার সীতেশ প্রামাণিকের গ্রেফতারি পলাতক টুলুর নেটওয়ার্কের ওপর আরও এক বড় আঘাত।

স্থানীয় সূত্রের খবর, টুলু মণ্ডলের বেআইনি বালি ও পাথর খাদানের বহু গুরুত্বপূর্ণ রসিদ, চালান ও হিসাবের নথিপত্র একটি গাড়ি করে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই গাড়িটি আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই এই সীতেশ প্রামাণিকের নাম জোরালোভাবে সামনে আসে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কড়া নীতির জেরে ইতিমধ্যেই টুলুর ৮টি পাথর খাদানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ধৃত সীতেশকে আজ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে টুলুর বর্তমান অবস্থান এবং এই বিশাল অবৈধ লেনদেনের বাকি গোপন নথির হদিস পাওয়া যায়।