প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও এখনই মিলল না বড় কোনও স্বস্তি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)-র অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’। কিন্তু আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দবেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে। ফলে দল পরিচালনার টাকা তোলা নিয়ে চরম আইনি জটিলতায় বহাল রইল তারা।
আদালতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, দলের মূল ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (যাতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে) ফ্রিজ করে দেওয়ার ফলে দলের দৈনিক সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং কর্মীদের বেতন বা রোজকার খরচ চালানো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তত দল চালানোর দৈনিক খরচের টাকা তোলার জন্য অন্তর্বর্তী অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত এখনই এই বিষয়ে নিজেরা কোনও ছাড় দিতে রাজি হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ফ্রিজিং অর্ডারের পেছনে কেন্দ্রীয় এজেন্সির যুক্তি কী, তা আগে জানা প্রয়োজন। ইডি-র বক্তব্য বা হলফনামা তলব করে আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১১ অগাস্ট ২০২৬।
এই মামলার নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর তদন্ত। ইডি-র দাবি অনুযায়ী, পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে তদন্ত করতে গিয়ে তারা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি চাঞ্চল্যকর সংস্থার হদিস পায়। অভিযোগ, এই সংস্থাটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের চার্টার্ড ফ্লাইট বা বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি—তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ওই অ্যাভিয়েশন সংস্থা ও তার সহযোগী সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ওই টাকা ঘুরিয়ে একটি ‘এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০’ (Embraer Legacy 600) বিমান এবং একটি ‘অগুস্তা ১০৯’ (Agusta 109) হেলিকপ্টার কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই আর্থিক অসঙ্গতির জেরেই গত জুলাই মাসে ইডি তৃণমূলের ৪৪০.৪২ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।
এর আগে গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চও ইডি-র এই সিদ্ধান্তের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দিতে স্পষ্ট মানা করে দিয়েছিল। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, তদন্তের এই প্রাথমিক স্তরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং আইনি লড়াই লড়তে হবে হলফনামা বিনিময়ের মাধ্যমেই। হাইকোর্টে মুখ পোড়ার পরেই শেষ ভরসা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করেছিল কালীঘাটপন্থী দল। কিন্তু নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় আইনি জটে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কালীঘাটপন্থীদের ভাগ্যে আজ দিল্লিতেও স্বস্তি মিলল না। এখন আগামী ১১ অগাস্ট ইডি সুপ্রিম কোর্টে কী বিস্ফোরক তথ্য জমা দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।