প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার ঠিক আগেই বড়সড় সংকটের মুখে দেশের খাদ্যবাজার। গত কয়েকদিনে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে, গত ১৭ আগস্ট যে চিনির প্রতি কেজির দাম ছিল ৫১ টাকা, তা বুধবার (১৯ আগস্ট) একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৫৪ টাকায়। চিনির এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে চরম সমস্যায় পড়তে চলেছেন দেশের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোল্ড ড্রিংকস, চকলেট, বিস্কুটসহ একাধিক উৎসবের খাদ্যসামগ্রীর দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের বাজারে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। চিনির এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি এবং বাজারে জোগানের তীব্র টান রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও উপভোক্তা মন্ত্রক। কালোবাজারি ও ফাটকাবাজি রুখতে উৎসবের তিন মাস (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর) চিনি মজুতের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৫ দিন করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বাজারের একাংশের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, সরকার চিনি বা আখের রস থেকে গাড়ির জ্বালানি ‘ইথানল’ তৈরিতে অতিরিক্ত জোর দেওয়াতেই কি চিনির এই আকাল তৈরি হলো? তবে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আখের রস থেকে ইথানল তৈরির বরাদ্দ বিগত বছরের ১২% থেকে কমিয়ে এবার মাত্র ৯% করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের তিন-চতুর্থাংশ (প্রায় ৭৫%) ইথানল তৈরি হচ্ছে শস্য ও ভুট্টা (Maize) থেকে। ফলে ইথানল নয়, বরং প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং কম উৎপাদনই চিনির দাম বাড়ার আসল কারণ।
চলতি মরশুমে দেশে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন থাকলেও, তা কমে মাত্র ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে আখ ক্ষেতে জল জমা এবং পোকার উপদ্রবে আখের ফলন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গাপূজা, দীপাবলি ও গণেশ চতুর্থীর আগে বড় বড় ফুড প্রসেসিং সংস্থা ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা বিপুল চিনি আগাম কিনতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমায় মাত্র দুই মাসে বিশ্ববাজারে চিনির দাম টন প্রতি ৪৭৪ ডলার থেকে বেড়ে ৫৫২ ডলারে পৌঁছেছে।
যারা প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন (যেমন ক্যাডবেরি, কোল্ড ড্রিংকস প্রস্তুতকারক বা বড় মিষ্টির দোকান), তারা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি ব্যবহারের চিনি মজুত রাখতে পারবেন না। দেশের বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি (Raw Sugar) সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত (Duty-Free) আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে। চিনি কলগুলিকে সাধারণ সময়ের চেয়ে এগিয়ে এনে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকেই আখ মাড়াই (Crashing) শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের মরশুমেই বাজারে নতুন চিনির জোগান চলে আসে। সরকারের এই কড়া অবস্থান এবং আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মিষ্টির বাজারে বড় কোনো স্থায়ী সংকট তৈরি হবে না বলেই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।