প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় রবিবার এক বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা চত্বর। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ বসিয়ে পুরসভার এই অভিযানে স্থগিতাদেশ দিতে হয়েছে। আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে পিছু হটেছে কলকাতা পুরসভার পে-লোডার ও বুলডোজার।

ঘটনার সূত্রপাত টালিগঞ্জের ৫১/১এ এবং ৫১/১বি, সতীশ মুখার্জি রোড (কালীঘাট সংলগ্ন সাহেব বাগান এলাকা) এলাকায়। কলকাতা পুরসভার দাবি, এই ভবনগুলি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরসভার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১,৫০০ বর্গমিটার জুড়ে এই বেআইনি নির্মাণটি মূলত একটি নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির (যা গ্রেড-১ হেরিটেজ মসজিদ ও টিপু সুলতানের বংশধরদের সমাধির অংশ) ওপর জবরদখল করে তৈরি করা হয়েছিল। রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টা নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে পুরকর্মীরা ভবনটি ভাঙতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অতর্কিত এই উচ্ছেদ অভিযানের মুখে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের বাসস্থান বাঁচাতে স্থানীয় মহিলারা বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তুমুল বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পুরসভার এই আকস্মিক ভাঙচুর অভিযানের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এলাকার বাসিন্দা অনিতা দাস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর নির্দেশে ছুটির দিনেই বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চে মামলার জরুরি শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পুরসভার এই অতিসক্রিয়তার সমালোচনা করে স্পষ্ট জানায় যে, ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরনিগম আইনের ৪০০(৩) ধারার অধীনে বাসিন্দাদের মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনালের কাছে আপিল করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু গত শুক্রবার নোটিস দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায়, কোনো আইনি প্রতিকার খোঁজার উপযুক্ত ও অর্থবহ সুযোগ না দিয়ে এভাবে বাসস্থান ভেঙে ফেলা আইনের চোখে শোভন নয়।বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী ৩০ দিনের জন্য পুরসভার দেওয়া ওই ভাঙার নোটিস সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। এই সময়কালের মধ্যে কলকাতা পুরসভা ওই ভবনে কোনও ভাঙচুর বা ভাঙার কাজ চালাতে পারবে না। আবেদনকারী এই ৩০ দিনের মধ্যে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনালে আইনি আপিল করার সুযোগ পাবেন।

আদালতের এই স্থগিতাদেশের খবর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথেই সকাল ১১:১৫ নাগাদ পুলিশ ও পুর প্রশাসন বুলডোজার ঘুরিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে টিপু সুলতানের পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ শাহিদ আলম মারধরের অভিযোগ এনে টালিগঞ্জ থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।