প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ এবং হস্টেলের দেওয়ালে দেশবিরোধী গ্রাফিতি বিতর্ক নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগত তাণ্ডব এবং ছাত্রসমাজকে ঢালাওভাবে ‘দেশবিরোধী’ বা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ তকমা দেওয়ার বর্তমান সরকারি মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সরাসরি নিজের বন্ধু বলে সম্বোধন করে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তপ্ত যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান বিজেপি সরকারের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের পালটা দিয়ে মমতার এই ‘ছাত্র-হিতৈষী’ অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গতকাল, (সোমবার) বিকেলে একটি ডিজিটাল বার্তা ও ফেসবুক লাইভে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:”যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাণ্ডব করে এলেন। আমার সঙ্গে ওদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কখনও কখনও হয়েছে। কিন্তু, আমি কখনও ওদের অশ্রদ্ধা করিনি। ছাত্রছাত্রীরা আমার বন্ধু। ওরা যখন অনশন করছিল আমি ছুটে গিয়েছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব একটি ধারা থাকে। কিন্তু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা হস্টেলের ভেতরের কিছু লেখার ওপর ভিত্তি করে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা ও ছাত্রসমাজকে দাগী অপরাধী বা দেশবিরোধী তকমা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

যাদবপুরের পাশাপাশি রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (প্রাক্তন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) থেকে স্ক্রুটিনির নামে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া নিয়েও বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, “সবাইকে নয়, দেখে দেখে দিচ্ছেন, চেখে চেখে দিচ্ছেন, বর্ণ দেখে দিচ্ছেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় যাদের নাম বাদ গেছে, তারা নামের তালিকা তৈরি করুন। আমি আপনাদের পাশে থাকব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন যাদবপুরে ‘জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠা ও হস্টেলের গ্রাফিতি নিয়ে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পালটা চাল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার বদল হলেও তিনি বিরোধী নেত্রী হিসেবে মাঠ ছাড়ছেন না এবং ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশেই থাকছেন।