প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বর্তমান সরকারের কড়া বিবৃতির পরেই এবার চরম সংঘাতে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে দেওয়া হুঁশিয়ারির পরেই মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত বিস্ফোরক ও দীর্ঘ এক পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি অভিযোগ তুলেছেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাংবিধানিক পদমর্যাদা এবং সরকারি চেম্বার ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছেন এবং প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন।

গতকাল, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডেল থেকে করা পোস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন:”ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন নিম্নস্তরের নজির (A NEW LOW in Indian politics)! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি সরকারি অফিসে বসে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা করেছেন এবং আমাকে গৃহবন্দি করে রাখার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন।” তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে লিখেছেন, “আমি ভারতের সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি, সম্মানীয় প্রধান বিচারপতি এবং দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাই—আমাদের সংবিধান কি এই ভারতেরই স্বপ্ন দেখিয়েছিল? যেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রী সরকারি চেম্বার ব্যবহার করে বিরোধীদের এভাবে নিশানা করতে পারেন?”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল সোমবার বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর একটি ডিজিটাল বার্তা বা লাইভ সেশনকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বর্তমান বিজেপি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ (প্রাক্তন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) তালিকা থেকে বহু যোগ্য মহিলার নাম স্ক্রুটিনির নামে বাদ দিচ্ছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক বৈষম্য কাজ করছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, যারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই কুৎসা ও মিথ্যা গুজব ছড়াবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারিও দেন।

নিজের অবস্থানে অনড় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও তিনি আমজনতার অধিকারের পক্ষে ময়দান ছাড়ছেন না। তিনি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমি এই ফ্যাসিস্ট মানসিকতার সামনে মাথা নত করব না। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমার লড়াই চলবে।” পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে যাওয়ার পর, দুই শিবিরের এই শীর্ষ তরজা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।