প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রস্তাবিত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও আন্দোলন রুখতে জরুরি কোনো নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (৩১ অগস্ট ২০২৬) সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো আন্দোলনের ওপর আগে থেকে কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা বসানো আদালতের কাজ নয়।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্পূর্ণভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়।

আসন্ন ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত CJP যে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিলের ডাক দিয়েছে, তাতে রাজধানীতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবী ডঃ রিজওয়ান আহমেদ। তবে এই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ বলেন, “আদালত আগে থেকে এই অনুমান করতে পারে না যে আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি ঘটবে। আমরা এই মুহূর্তে ধরে নিচ্ছি যে সবাই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও আইন মেনেই আচরণ করবেন।” আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে পরবর্তী শুনানির তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধার্য করেছে—যা ৫ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ৫ দিন পরে।

আন্দোলনে কোনো স্থগিতাদেশ না দিলেও দেশের পুলিশ ও প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট আইনি বার্তা দিয়েছে। আদালত আবেদনকারীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যদি কোনো নিরাপত্তার আশঙ্কা থাকে, তবে সরাসরি কেন্দ্র সরকার এবং দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হতে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা পুলিশের। শীর্ষ আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে একটি আইনি নোটিশ ইস্যু করেছে এবং তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিলে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি নাটকীয় মোড় আসে। বিগত দিনে (জুলাই মাসে) NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে CJP-র নেতৃত্বে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের জেরে পুলিশ যে সমস্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল, তা প্রত্যাহারের দাবিতেই ৫ সেপ্টেম্বরের এই নতুন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ এড়াতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে গতকাল বিকেলেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কাছে পৌঁছান দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা (Article 142) প্রয়োগ করে ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সেই সমস্ত এফআইআর (FIR) সম্পূর্ণ খারিজ বা প্রত্যাহার করার জন্য দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জরুরি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।