প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য এক অবিশ্বাস্য সুসংবাদ! দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের চাপ কমাতে এবার পুরোপুরিভাবে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport)। দীর্ঘকাল অবহেলায় পড়ে থাকা এই বিমানবন্দরটির পুনরুজ্জীবনের জন্য সোমবার (৩১ অগস্ট ২০২৬) দিল্লিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হাইপ্রোফাইল বৈঠক সম্পন্ন হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক সাড়া মেলায় এবার বেহালা থেকে খুব দ্রুত কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক উড়ান শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

বেহালা বিমানবন্দর ফের পুরোদমে চালু করতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। এই বিষয়ে সোমবার দিল্লিতে ভারতের কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জারাপুর সঙ্গে এক বিশেষ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রাজ্যের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী তথা বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। বৈঠকে ইন্দ্রনীল খাঁ সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বিশেষ চিঠি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে বেহালা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো সওয়াল করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে বেহালা বিমানবন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো এবং টেকনিক্যাল রিপোর্ট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে বেহালা বিমানবন্দরে ৯১৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রানওয়ে ছোট যাত্রীবাহী বিমান যেমন ATR-72, চার্টার্ড ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওঠানামার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ড্রোন সার্ভে (Drone Survey) করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষায় দেখা গেছে, কলকাতা ব্লকের অন্তর্গত গোপালপুর, বেহালা এবং পরুই—এই তিনটি মৌজা মিলিয়ে বিমানবন্দরের অধীনে মোট ২১৫.৬ একর জমি রয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ বা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, নিরাপত্তা (Security) এবং অন্যান্য সমস্ত ধরনের প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিতে রাজ্য সরকার যে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করবে, সেই নিশ্চয়তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমানে দমদম বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী সংখ্যা ২ কোটি ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বিকল্প বিমানবন্দরের প্রয়োজন ছিল জরুরি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেহালা বিমানবন্দর পুরোদমে চালু হলে:কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শিল্প ও বাণিজ্যিক বিকাশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ (UDAN) বা আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ প্রকল্পের অধীনে সাধারণ মানুষ কম খরচে বিমান পরিষেবা পাবেন।আপৎকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য ‘মেডিকেল ইভাকুয়েশন’ বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা বহুগুণ উন্নত হবে।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু এই বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বিমান বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেহালা বিমানবন্দরের চারপাশে গত কয়েক বছরে প্রচুর বহুতল আবাসন গড়ে উঠেছে, যা বিমান সুরক্ষার (Flight Safety) ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সমস্ত বাধা চিহ্নিত করে দ্রুত রানওয়ে সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করবে রাজ্য ও কেন্দ্র।