প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ঘটনা চেপে দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকার করার মামলায় এবার ভিনরাজ্য থেকে ধরা পড়লেন আরও এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বুধবার গভীর রাতে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ খড়দহ থানার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এই মেগা অপারেশনটি চালিয়েছে।আজ, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) ধৃত সোমনাথ দে-কে বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে পেশ করা হচ্ছে। আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমোদন আদায় করে পুলিশ তাকে অতি দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন সোমনাথ দে। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি একের পর এক রাজ্য এবং ডেরা পাল্টাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি ওড়িশার একাধিক আস্তানা এবং হায়দরাবাদেও আত্মগোপন করেছিলেন। তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিতে তিনি ক্রমাগত নিজের পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে একাধিক নতুন সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি; আধুনিক প্রযুক্তির জালে শেষমেশ বেঙ্গালুরু থেকেই ধরা পড়েন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের সেই অভিশপ্ত ঘটনার পর, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হয়। গত ৯ আগস্ট খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে এই রহস্যজনক সৎকারের তদন্তভার দেওয়া হয়।মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই নির্যাতিতা ‘অভয়া’র বাবা খড়দহ থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মৃতার পরিবারের মূল অভিযোগ ছিল—পরিবারের সম্পূর্ণ অমতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক দ্রুত সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছিল যাতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) সুযোগ না থাকে। শ্মশানে অন্য মরদেহের সিরিয়াল নম্বর পেছনে ঠেলে দিয়ে তড়িঘড়ি ৩ নম্বর থেকে ১ নম্বরে এনে চিকিৎসকের দেহ দাহ করা হয়। সৎকার সংক্রান্ত নথিতে পরিবারের কোনো বৈধ স্বাক্ষরও ছিল না।
নির্যাতিতার বাবার দায়ের করা সেই এফআইআর-এ (FIR) মূলত তিনজনের নাম ছিল—পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়েছে। সোমনাথ দে গ্রেফতার হওয়ার পর এই মামলার ত্রিমূর্তিই এখন শ্রীঘরে। পুলিশের অনুমান, সোমনাথ দে-কে সশরীরে রাজ্যে এনে বাকিদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে, আরজি করের সেই রাতে ঠিক কার নির্দেশে এবং কোন কোন প্রভাবশালীদের চাপে প্রমাণ নষ্ট করতে এই তড়িঘড়ি শ্মশানযাত্রা সাজানো হয়েছিল, তার সব রহস্য উদঘাটিত হবে।