প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন পুরভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। এনডিএ (NDA) জোটের সমীকরণকে সম্পূর্ণ একপাশে সরিয়ে রেখে কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে একক শক্তিতে লড়ার বড় ঘোষণা করে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এই দ্ব্যর্থহীন প্রত্যাখ্যানের পরেও পদ্ম শিবিরের সঙ্গে জোটে সামিল হতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনসিপিআই (NCPI) নেতৃত্ব। বিজেপির নাছোড়বান্দা আপত্তির মুখেও জোটের সপক্ষে প্রকাশ্যে জোরালো সওয়াল করলেন এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন কলকাতা কর্পোরেশন (KMC) ও হাওড়া কর্পোরেশন (HMC) নির্বাচন নিয়ে দলের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একাই নির্বাচন লড়ে কলকাতা কর্পোরেশন এবং হাওড়া কর্পোরেশন দখল করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।”কেন্দ্রীয় স্তরে বা অন্য রাজ্যে শরিকি সমীকরণ যাই হোক না কেন, বাংলার মাটিতে বিজেপি যে কোনো শরিক ছাড়াই নিজের সাংগঠনিক শক্তিতে লড়বে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের সাফ কথা, বিজেপি কারও দয়ায় বা কারও আশীর্বাদে নয়, নিজস্ব আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই বাংলায় লড়াই করবে।
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা পাওয়ার পরেও হাল ছাড়তে নারাজ তৃণমূলত্যাগী ও বর্তমানে এনসিপিআই (NCPI) শিবিরের হেভিওয়েট নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শমীক ভট্টাচার্যের এই সরাসরি একলা চলার রণকৌশল সামনে আসার পরেও কাকলি দেবী সংবাদমাধ্যমের কাছে জোটের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “একসঙ্গে লড়লে অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।” তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁরা যৌথভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নামলে ভোটের ময়দানে বিরোধীদের বিরুদ্ধে শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভাষায়, “একসঙ্গে কাজ করলে সেটার যোগফলটা অনেক ভাল হবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যেখানে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব নিজেদের একক আধিপত্য প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর এবং নতুন শরিকদের ব্রাত্য করে রাখার নীতি নিয়েছে, ঠিক তখনই এনসিপিআই-এর এই নাছোড়বান্দা মনোভাব বাংলার রাজনীতিতে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে শমীক ভট্টাচার্যের কড়া প্রত্যাখ্যান, আর অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মরিয়া দৌত্য—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ছোট লালবাড়ির ভোট ঘিরে তৈরি হওয়া জট কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।