প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বর্ষার মরশুম বাড়তেই সংক্রমণ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৩৫ জন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে বিভিন্ন পুরসভা ও একাধিক দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরেই বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গি মোকাবিলায় একগুচ্ছ জরুরি গাইডলাইন বা অ্যাডভাইসরি জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন।তথ্য গোপন না করে এবং কোনো প্রকার আতঙ্ক না ছড়িয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, ডেঙ্গির সংক্রমণ গোড়াতেই রুখতে এবার পুরসভা ও পঞ্চাক্ষেত্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগী চিহ্নিত করবেন। সংগৃহীত তথ্য প্রতিদিন নিয়ম করে স্বাস্থ্য দফতরের পোর্টালে আপডেট করতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার গতিবিধি এবং শারীরিক অবস্থার ওপর পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি (Surveillance) থাকবে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই ব্যাপক সচেতনতা ও নজরদারি অভিযান চলবে।
রাজ্যের যে সমস্ত এলাকায় আচমকা জ্বর বা ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে, সেগুলিকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এমন হটস্পট দেখা দিলেই জেলা, ব্লক বা মিউনিসিপ্যালিটি স্তরে দ্রুত ‘ফিভার ক্যাম্প’ (Fever Camp) বা বিশেষ চিকিৎসা শিবির স্থাপন করতে হবে। এই ক্যাম্পগুলি সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং সেখানে মেডিকেল অফিসার, নার্স ও ল্যাব টেকনোলজিস্টদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যারা ওআরএস (ORS) ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য কিটের কোনও অভাব নেই। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষা তো হবেই, তার পাশাপাশি যেসব এলাকায় কাছাকাছি সরকারি হাসপাতাল নেই, সেখানে নির্দিষ্ট বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষা করা যাবে। পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়লে প্লেটলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে থাকলে তা স্লাইড মেথডে পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্লাড কাউন্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট রোগীকে দিতে হবে।
স্বাস্থ্য ভবনের তরফ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বাড়িতে চিকিৎসাধীন কোনও ডেঙ্গি রোগীর অবস্থা সামান্য আশঙ্কাজনক বা সঙ্কটজনক মনে হলেই তাঁকে আর বাড়িতে ফেলে না রেখে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরিত (Refer) করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, কোনও চিকিৎসক বা হাসপাতাল ডেঙ্গির তথ্য আড়াল করতে পারবেন না, প্রেসক্রিপশনে ডেঙ্গি হলে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ মশা নিধন ও স্প্রে করার কাজ জোরদার করা হচ্ছে।