প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঙালি আবেগের চিরন্তন প্রতীক মহানায়ক উত্তম কুমার। আজ, ৪ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষের ঐতিহাসিক লগ্নে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের আবেগ ও স্মৃতিচারণমূলক নানা অনুষ্ঠান ট্রেন্ড করছে। মহানায়কের এই বিশেষ জন্মতিথিতে আজ সকালে নিউটাউনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। আর সেই মেগা মঞ্চ থেকেই টলিউড তথা বাংলার সংস্কৃতি জগতের জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিশিয়াল ‘কালচারাল অ্যাডভাইজার’ (সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা) হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। নিউটাউনে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা অত্যাধুনিক ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণা বিনোদন জগতে এক নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।

মহানায়কের ১০০ বছরের জন্মবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পেরে নিজের মনের গভীর উৎসাহ ও আবেগ প্রকাশ করেছেন টলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নিউটাউনের মূল আয়োজন—সবখানেই তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহানায়কের সহকর্মী হিসেবে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রঞ্জিত মল্লিক জানান, সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের এই বিপুল উৎসাহ প্রমাণ করে যে উত্তম কুমার আজ শতবর্ষেও বাঙালির হৃদয়ে কতটা প্রাসঙ্গিক ও অমর।

নিউটাউনে প্রস্তাবিত এই চলচ্চিত্র কেন্দ্রটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু বড় রূপরেখা তুলে ধরেন। এই সেন্টারে ৭০০ আসনের দুটি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ, ফুডকোর্ট, ১০০০ আসনের একটি বড় অডিটোরিয়াম, ওপেন এয়ার থিয়েটার এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস ও পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরি করা হবে। বর্ষার মরশুম শেষ হতেই এর নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। নবনিযুক্ত কালচারাল অ্যাডভাইজার মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাংলার পাহাড়, সমুদ্র ও রোমান্সকে সিনেমার পর্দায় ভারতের বুকে তুলে ধরতে এবং ভিনরাজ্যের পরিচালকদের আকর্ষণ করতে রাজ্য সরকার এবার থেকে চলচ্চিত্রে ৩০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকি (Subsidy) দেবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সরকার কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না এবং কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখা হবে।আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তী ও রঞ্জিত মল্লিক ছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং যিশু সেনগুপ্তের মতো টলিউডের প্রথম সারির তারকারা।