প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে যোগদান এবং গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, আজ নিজেই তার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) নিউটাউনে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভূমিপূজা ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রসেনজিতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার পাশাপাশি সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এক রুদ্ধদ্বার সাক্ষাতের পর থেকেই টলিপাড়ায় জল্পনা ছড়ায় যে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বোধহয় এবার সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখছেন। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন মঞ্চ থেকে বলেন:“আমি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসার পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আমার কাছে গিয়েছিলেন। অনেক সংবাদমাধ্যম লিখলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কি রাজনীতিতে আসছেন? তিনি কি শুভেন্দু অধিকারী যেই দল করে, সেই দলে নাম লেখাচ্ছেন? কত গল্প আপনারা তৈরি করেছিলেন!”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে প্রসেনজিৎ তাঁর নিজের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে বা টিকিট চাইতে নবান্নে যাননি। অভিনেতার নিঃস্বার্থ উদ্যোগের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই। তিনি এসেছিলেন মহানায়কের শতবর্ষ ভাল করে পালন হোক এটা বলতে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রসেনজিৎ ইতিমধ্যেই পদ্মশ্রীসহ দেশের একাধিক সর্বোচ্চ নাগরিক ও চলচ্চিত্র সম্মান পেয়েছেন, তাই ওঁর কোনো লোভ নেই। ওঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলা সিনেমার আবেগ এবং মহানায়কের স্মৃতিকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া।

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের এই মেগা মঞ্চ থেকে টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত জমানার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে রাজ্য সরকার কোনও কিছুতে হস্তক্ষেপ করবে না। কোনও রাজনীতি হবে না। আমি চাই সবকিছু স্বচ্ছ হোক। প্রতিভা আছে এবং আমি চাই সেই প্রতিভা যেন সঠিক পুষ্টি পায়।” টালিগঞ্জের সিনেমা জগতকে রাজনৈতিক দলদাসের হাত থেকে মুক্ত করে মুক্ত বাতাসে কাজ করার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনের এই ফিল্ম সেন্টারটি তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই গোটা উদযাপনের ‘ঋত্বিক’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।