প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও হেরিটেজ মানচিত্রে চন্দননগরকে বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অন্যতম বড় সাক্ষী, চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবন (French Registry Building) সংস্কারের এক মেগা কর্মসূচির কাজে সরাসরি হাত লাগাল রাজ্য প্রশাসন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হুগলির চন্দননগরের মাটিতে সশরীরে এসে উপস্থিত হলেন ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতু (Thierry Mathou)। চন্দননগরের বুকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এই হাই-প্রোফাইল সফর এবং ফরাসি সরকারের সরাসরি বিনিয়োগের বার্তা ঘিরে রাতারাতি এক তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা চন্দননগর স্ট্র্যান্ডের ধারের এই শতাব্দীপ্রাচীন ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনটিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ও তার প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে সংস্কার করার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির সাক্ষী হয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতু বর্তমান বিজেপি সরকারের এই হেরিটেজ ট্যুরিজম নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুধু তাই নয়, ফরাসি রাষ্ট্রদূত বড়সড় বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানান যে, চন্দননগরের ফরাসি স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ফ্রান্স সরকার সরাসরি বড়সড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। ইন্দো-ফ্রেঞ্চ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের হাত ধরে এই হেরিটেজ ভবনটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

নবান্নে উত্তরবঙ্গের চা ও পর্যটন শিল্পকে ফ্রান্সের ওয়াইন মডেলের আদলে বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং করার যে মেগা প্ল্যান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ নিয়েছিলেন, চন্দননগরের এই ফরাসি কানেকশন তারই একটি অত্যন্ত বড় এবং ধারাবাহিক অংশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক জটিলতায় চন্দননগরের এই ঐতিহাসিক ফরাসি স্থাপত্যগুলি ধুঁকছিল। নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্ত জট কাটিয়ে ফরাসি দূতাবাসকে সাথে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ল। ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এই চন্দননগর সফর ও বিনিয়োগের প্রকাশ্য বার্তা বাংলার বুকে বড় মাপের ইউরোপীয় লগ্নির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।