প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুজোর মুখে খাস কলকাতার বুকে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক ইতিহাস। সল্টলেক সিটি সেন্টারে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জয়ী ‘বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যাশন ওয়ার্ডরোব’ (৫০ ফুট × ২৫ ফুট)-এর গ্র্যান্ড উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জনপ্রিয় রিটেল চেন ‘বাজার্স স্টাইল রিটেইল লিমিটেড’ (স্টাইল বাজার)-এর হাত ধরে তৈরি হওয়া এই মেগা প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে আজ সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় রাজ্যে এখন দ্রুত গতিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসছে।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, এই মেগা প্রজেক্টের পেছনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যে মোট ১,৯০০ কোটি টাকার এক বিশাল বিনিয়োগ করে ফেলেছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে এই ব্র্যান্ডের ১১০টি সেন্টার রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে রাজ্যে মোট ২৫০টি নতুন সেন্টার বা স্টোর খোলার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই সংস্থা। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে এই সংস্থাটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫,০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে রাজ্যে কয়েক হাজার মানুষের জন্য এক বিশাল পরোক্ষ কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে।
ফ্যাশন আর কাপড়ের ব্যবসার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই মেগা গ্রুপটি এবার পশ্চিমবঙ্গের গ্রিন এনার্জি বা সবুজায়ন শিল্পেও পা রাখছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এই সংস্থাটি একটি বড়সড় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (Solar Power Plant) গড়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর জন্য ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া জেলায় ১০০ একর জমি কিনে ফেলেছে এই সংস্থা। ওই নির্দিষ্ট জমিতেই এবার অত্যাধুনিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা পুরুলিয়াসহ সমগ্র রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং গ্রিন এনার্জি সেক্টরে এক বড়সড় বদল আনতে চলেছে।
নিউটাউনে এল অ্যান্ড টি (L&T)-এর মেগা ডেটা সেন্টারের পর সল্টলেকে গিনেস রেকর্ড গড়া এই রিটেল প্রজেক্টের উদ্বোধন করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে এখন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত। ডানকুনিতে শ্রীরাম ও লাক্স গ্রুপের ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প সম্প্রসারণ, মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের ১৫,০০০ কোটি টাকার মেগা এক্সপ্যানশন এবং সাঁকরাইলে আমূল-এর ৬০০ কোটি টাকার ডেয়ারি প্ল্যান্টের কাজ এর মধ্যেই দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে।