প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে রাজ্য সরকারের নেওয়া এক চরম পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার বেনজির ও সর্বাত্মক যুদ্ধের ডাক দিল গোটা রাজ্যের শিক্ষামহল। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’-এর প্রতিবাদে পুরোপুরি রণংদেহী মেজাজে নেমেছেন শিক্ষক ও গবেষকেরা। অবিলম্বে এই বিল প্রত্যাহার করা না হলে রাজ্যজুড়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার মতো তীব্র আন্দোলনের চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় আয়োজিত এক জরুরি ও যৌথ কনভেনশনে এই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। এই অভূতপূর্ব প্রতিবাদী মোর্চায় একজোট হয়েছে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (JUTA), ওয়েস্ট বেঙ্গল কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (WBCUTA), আবুটা (ABUTA)-সহ রাজ্যের মোট ১৬টি প্রথম সারির শিক্ষক, অধ্যাপক ও গবেষক সংগঠন।

বিধানসভায় পাস হওয়া এই নতুন বিলের মাধ্যমে সরকার এখন থেকে এক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের অন্য দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে বদলি (Inter-University Transfer) করার সর্বময় ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে চলেছে। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষকেরা। JUTA এবং অন্যান্য সংগঠনের দাবি, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম, আইন এবং নিয়োগের শর্ত থাকে। একতরফা সরকারি নির্দেশে এই বদলি প্রক্রিয়া চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। অধ্যাপকদের হঠাৎ মাঝপথে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করে দিলে তাঁদের অধীনে থাকা পিএইচডি (PhD) গবেষক এবং কোটি কোটি টাকার চলমান ল্যাবরেটরি প্রজেক্টগুলি সম্পূর্ণ থমকে যাবে। শিক্ষকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের শিক্ষানীতির সমালোচনা করলে এই আইনটিকে ‘শাস্তিমূলক বদলি’র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পেশ করেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বিলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলির সমালোচনা করেন এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির মাঝেই স্পিকারের উপস্থিতিতে বিধানসভায় ধ্বনিভোটে এই বিল পাস হয়ে যায়। অন্য দিকে, WBCUTA-এর সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত এবং অন্যান্য শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের পুরোনো বিলের ধারাকে আরও ক্ষতিকারকভাবে এই বিলে যুক্ত করা হয়েছে।

১৬টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে শিক্ষক সংগঠনগুলি খুব শীঘ্রই রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য আর. এন. রবির কাছে লোকভবনে লিখিত ডেপুটেশন পাঠাচ্ছেন, যাতে তিনি এই বিলে স্বাক্ষর না করেন। এর পাশাপাশি বিলের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে যাওয়ার মতো বড় আইনি পদক্ষেপের পথও খোলা রাখছেন গবেষক ও অধ্যাপকেরা।