প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে যখন প্রতীক আর দলের দখল নিয়ে দুই শিবিরের আইনি খণ্ডযুদ্ধ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার পর, আজ রবিবার রাতে (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সবাইকে চমকে দিয়ে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝেই এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আগামী ৬ অক্টোবরের মেগা উপনির্বাচনে নামার জন্য নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা না করেই রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে দল। রাজ্য রাজনীতির মূল ভরকেন্দ্র নন্দীগ্রাম আসনে চরম সাসপেন্স বজায় রেখে প্রার্থী হিসেবে এক নতুন মুখকে সামনে আনা হয়েছে। এখানে কালীঘাট-তৃণমূলের বাজি সঞ্চিতা প্রধান দে। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এই গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে দলের রাশ তুলে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ হেভিওয়েট নেতা রবিউল আলম চৌধুরীর হাতে।
এই উপনির্বাচনের মূল রোমাঞ্চ লুকিয়ে রয়েছে ব্যাকস্টেজে। ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আসলে কার অনুকূলে যাবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। গতকাল শনিবারেও এই নিয়ে দিল্লিতে ম্যারাথন শুনানি চলেছে। এমনকি ঋতব্রত শিবিরের পেশ করা নথির ভিত্তিতে কালীঘাট-তৃণমূলের কাছে কড়া জবাব তলব করেছে কমিশন, যার ডেডলাইন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। প্রতীক নিয়ে এই আইনি দড়িটানাটানি চললেও কালীঘাট শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা আইনি লড়াই জিতে জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই ময়দানে নামবেন এবং জয় ছিনিয়ে আনবেন।
আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোটের ফলাফল। নির্বাচন কমিশনের শিডিউল অনুযায়ী, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সমস্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। ফলে হাতে সময় খুবই কম। ইতিমধ্যেই অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই দুই আসনে তাদের রণপ্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। নন্দীগ্রামে বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই (CPI) প্রার্থী করেছে শান্তিগোপাল গিরি-কে এবং কংগ্রেসের তরফে লড়ছেন মিলন প্রধান।অন্যদিকে রেজিনগরে বামেদের তরফে লড়াই করছেন সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থী বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ এবং কংগ্রেসের বাজি মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। প্রতীক জটের চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়ার আগেই এই প্রার্থী ঘোষণা করে কালীঘাট-তৃণমূল প্রতিপক্ষ শিবিরকে স্পষ্ট বার্তা দিল—তাঁরা মাঠ ছাড়তে নারাজ এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।