প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করার পর, বাংলার রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন অরূপ রায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। গতকাল নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ সামনে আসার পরই বিদ্রোহী শিবিরের প্রধান মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁদের এই লড়াই সাময়িক কোনও উপনির্বাচন জেতার জন্য নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে মূল দলের রাশ স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

বিদ্রোহী শিবিরের আইনজীবীরা নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরবারে যে সমস্ত নথিপত্র পেশ করেছেন, তা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তাদের মূল যুক্তি হলো, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালে এবং সেই কমিটির তথা ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই আইনত শেষ হয়ে গিয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিগত দেড় বছর ধরে দল কোনও নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক কমিটি ছাড়াই একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে চলছিল। এই আইনি ফাঁকটিকে কাজে লাগিয়েই অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী একটি নতুন সমান্তরাল সাংগঠনিক কমিটি গড়ে তুলেছে এবং নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করছে।

মহারাষ্ট্রের একনাথ শিণ্ডে বা অজিত পওয়ার মডেল অনুসরণ করে বাংলার এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আইনসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আগেই মজবুত করে নিয়েছিল। দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) থেকে বাঁচতে মূল দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে সই করে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা দিয়েছেন। লোকসভা এবং রাজ্যসভার একাধিক সাংসদও পর্দার আড়ালে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “গণতন্ত্রে বা রাজনৈতিক দলে কোনও অধিকার বংশানুক্রমিক বা স্থায়ী নয়। নিচুতলার কর্মী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সিংহভাগ যাদের সঙ্গে থাকবে, দল তাদেরই। আমরাই আসল তৃণমূল।”

আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১১টার ডেডলাইনের মধ্যে বিদ্রোহী শিবিরও নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নিজস্ব তিনটি বিকল্প নাম ও মুক্ত প্রতীক (Free Symbols) জমা দিয়েছে। আসন্ন ৬ October ২০২৬-এর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তারা সম্পূর্ণ পৃথক প্রার্থী দিয়ে মমতা শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচন আসলে বিদ্রোহীদের জন্য একটি শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। এখানে যদি তারা মমতা শিবিরের থেকে বেশি ভোট কাটতে বা নিজেদের প্রার্থীকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘আসল দল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি আরও জোরালো হবে। ৩ দশকের পুরোনো দলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্র্যাক থেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে ব্লু-প্রিন্ট অরূপ-ঋতব্রত শিবির তৈরি করেছে, তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।