প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের সংরক্ষিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করার সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বাংলার নিচুতলার লক্ষাধিক দলীয় কর্মী ও বুথ স্তরের নেতাদের ওপর। শীর্ষ স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে আইনি ও সাংগঠনিক লড়াই চললেও, জেলা ও ব্লকের বুথ স্তরের কর্মীরা এখন চরম বিভ্রান্তিতে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে যে চিহ্নে তারা দেওয়ালে চুন-কাম করেছেন, লড়াই করেছেন, আজ ইভিএম থেকে সেই চিরপরিচিত চিহ্ন উধাও হয়ে যাওয়ার খবরে বুথ স্তরের রাজনৈতিক কর্মীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। বুথ স্তরের কর্মীদের চরম বিভ্রান্তি: “ভোটটা চাইব কোন চিহ্নে?” পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও শহরতলির রাজনীতিতে দেওয়াল লিখন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেনা প্রতীকে ভোট চাওয়ার এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বুথ স্তরের বহু প্রবীণ কর্মী প্রার্থীর নামের চেয়েও ‘জোড়া ঘাসফুল’ চিহ্নের আবেগকে সম্বল করে ভোটারদের দরজায় যেতেন।আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১১টার ডেডলাইনের মধ্যে দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনের কাছে সম্পূর্ণ নতুন বিকল্প নাম ও মুক্ত প্রতীক (Free Symbols) জমা দিয়েছে। ফলে আসন্ন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে সম্পূর্ণ এক নতুন ও অপরিচিত চিহ্নে ভোট চাইতে হবে কর্মীদের। মেদিনীপুরের এক বুথ সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা ৩০ বছর ধরে ঘাসফুলের ঝান্ডা ধরেছি। এখন যদি সম্পূর্ণ নতুন কোনও প্রতীকে ভোট চাইতে যাই, গ্রামের সাধারণ প্রবীণ ভোটারদের বোঝাব কীভাবে? দলের বড় নেতারা ঝগড়া করে আমাদের দেউলিয়া করে দিল।”
নিচুতলার কর্মীদের এই চরম বিভ্রান্তি এবং ভেঙে পড়া মনোবল চাঙ্গা করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আজ বিকেলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নতুন অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করলেই যেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিচুতলায় প্রচার শুরু করা হয়। বুথ স্তরের কর্মীদের বোঝানো হচ্ছে যে, প্রতীক সাময়িকভাবে স্তব্ধ হলেও ‘ব্র্যান্ড মমতা’ এবং তাঁর ছবি এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।নতুন প্রতীকের ছবি দিয়ে দ্রুত লিফলেট ছাপানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য প্রতিটি জেলা স্তরের আইটি সেলকে (IT Cell) অ্যালার্ট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী জেলা স্তরের ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত নেতাদের নিজেদের পক্ষে টানতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিচুতলার কর্মীদের বার্তা দিচ্ছে যে, আইনিভাবে তারাই আসল দল এবং খুব শীঘ্রই মূল প্রতীক তারা ফিরে পাবে। এর পাশাপাশি, রাজ্যে নতুন ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারও এই বুথ স্তরের সাংগঠনিক শূন্যতার দিকে নজর রাখছে। তৃণমূলের চেনা প্রতীক উধাও হওয়ার ফলে যে সমস্ত সাধারণ কর্মী রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের সরাসরি পদ্ম শিবিরে শামিল করার জন্য স্থানীয় স্তরে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ৩ দশকের অভ্যস্ত ইভিএম বোতামের বদলে নতুন প্রতীক নিচুতলার কর্মীরা কতটা গ্রহণ করতে পারেন এবং ভোটারদের বোঝাতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ভাগ্য।