প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের (By-Election) ঠিক কয়েকদিন আগে নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে, পুরনো মামলায় মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট নেতার বাড়িতে আচমকা হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অন্যদিকে, ভূতার মোড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে চরম বাধার মুখে পড়তে হয় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে। সব মিলিয়ে ভোটের আগেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে নন্দীগ্রাম।
রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ৩টি গাড়ি নিয়ে আচমকা হানা দেয় নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তারাচাঁদ বাড় এলাকায়। এটি নন্দীগ্রামের ল্যান্ড মুভমেন্টের অন্যতম মুখ তথা ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের বিখ্যাত ‘জাহাজ-বাড়ি’। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের সময়কালীন একটি পুরনো খুন ও খুনের চেষ্টার মামলায় জারি হওয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় শেখ সুফিয়ান চিকিৎসার কারণে বাইরে থাকায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে একটি আইনি নোটিশও ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ।
শেখ সুফিয়ানের জাহাজ-বাড়ির পর যৌথ বাহিনী সরাসরি হানা দেয় হাজরাকাটা এলাকায় জমি আন্দোলনের আর এক তৃণমূল নেতা তথা নন্দীগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য শেখ সাহাউদ্দিনের বাড়িতে। পুলিশ সূত্রে খবর, সাহাউদ্দিনের নামেও ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১১ সালের বেশ কিছু মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তবে তল্লাশির সময় তিনিও বাড়িতে ছিলেন না। সুফিয়ানের জামাই হাবিবুর রহমান একে নির্বাচনী প্রতিহিংসা বলে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, পুরনো রাজনৈতিক মামলায় অনেকেই তো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাহলে ভোটের আগে হঠাৎ কেন এই তৎপরতা? যদিও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রোটোকল মেনেই এই রুটিন তল্লাশি চালানো হয়েছে।
নেতাদের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের সমান্তরালে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ে যায় ভূতার মোড় এলাকায়। সেখানে নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ ও বাধার মুখে পড়তে হয় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের (DTMC) প্রার্থী এতেসামুল হককে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের তুমুল বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ভোটের আর মাত্র ক’টা দিন বাকি থাকতে নন্দীগ্রামে এই ধরণের পুলিশি সক্রিয়তা এবং প্রার্থীর প্রচার রোখার ঘটনা আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে যে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।